
আজকের ব্যস্ত জীবনে, রান্নাঘরের কাজ সহজ করার জন্য Rice Cooker একটি অপরিহার্য গৃহস্থালি যন্ত্র। বিশেষ করে, যারা দ্রুত এবং সহজে ভাত রান্না করতে চান, তাদের জন্য রাইস কুকার একটি আদর্শ সমাধান। আধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে তৈরি রাইস কুকারগুলো এখন শুধু ভাতই নয়, বিভিন্ন ধরনের খাবার যেমন খিচুড়ি, পায়েস বা স্টিমড খাবার রান্নার জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অসংখ্য রাইস কুকার পাওয়া যায়, যা থেকে সেরা মডেলটি বেছে নেওয়া কঠিন হতে পারে। এই নিবন্ধে, আমরা বাংলাদেশের জনপ্রিয়, উন্নত এবং সেরা রাইস কুকার মডেল ও ব্র্যান্ডগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, যা আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
Rice Cooker কী এবং কিভাবে কাজ করে?
রাইস কুকার হলো একটি বৈদ্যুতিক রান্নার যন্ত্র, যা প্রাথমিকভাবে ভাত রান্নার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় চাল ও পানি সিদ্ধ করে নিখুঁতভাবে ভাত রান্না করে। ফলে রান্নার সময় চুলার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন হয় না, এবং ভাত কখনও বেশি সিদ্ধ বা শক্ত থাকার আশঙ্কা থাকে না।
এটি তাপ এবং বাষ্পের সমন্বয়ে ভাত রান্না করে। প্রথমে, চাল ধুয়ে রাইস কুকারের অভ্যন্তরীণ পাত্রে রাখা হয় এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি যোগ করা হয়, যেখানে সাধারণত পাত্রে পানির মাপের চিহ্ন দেওয়া থাকে। তারপর, রাইস কুকার চালু করা হলে এর ভিতরের হিটিং এলিমেন্ট তাপ উৎপন্ন করে, যা পানিকে ফুটিয়ে বাষ্পে রূপান্তরিত করে এবং এই বাষ্প চাল রান্না করে।
এরপর, যখন পানি শুকিয়ে যায়, তখন পাত্রের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং রাইস কুকারের থার্মোস্ট্যাট বা সেন্সর এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি সনাক্ত করে। অবশেষে, তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে, যা সাধারণত ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়, রাইস কুকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে রান্না বন্ধ করে দেয় এবং "কিপ ওয়ার্ম" মোডে চলে যায়। এই মোডে ভাত গরম থাকে, কিন্তু অতিরিক্ত রান্না হয় না।
Best Rice Cooker - বাংলাদেশে Rice Cooker এর জনপ্রিয়, উন্নত এবং সেরা মডেল ও ব্র্যান্ডসমূহ
বাংলাদেশের বাজারে বেশ কিছু জনপ্রিয় রাইস কুকার ব্র্যান্ড রয়েছে, যারা তাদের মানসম্পন্ন পণ্য ও টেকসই পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত। নিচে বাংলাদেশের সেরা কিছু রাইস কুকার ব্র্যান্ড ও তাদের জনপ্রিয় মডেল নিয়ে আলোচনা করা হলো।
১. Philips Rice Cooker
ফিলিপস রাইস কুকার একটি প্রিমিয়াম মানের রান্নার যন্ত্র, যা ৩ডি ইন্ডাকশন হিটিং, ফাজি লজিক এবং নন-স্টিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ভাত রান্না নিশ্চিত করে। ফ্রেশডিফেন্স প্রযুক্তি, ডিজিটাল কন্ট্রোল এবং বহুমুখী কুকিং মোড সহ এটি ভাতের গুণমান ও স্বাদ বজায় রাখে।
Philips Rice Cooker - এর মডেল সমূহ
Philips Rice Cooker- HD3038 |
![]() |
মূল বৈশিষ্ট্যঃ উন্নত 3D হিটিং প্রযুক্তি, ৫ গুণ শক্তিশালী নন-স্টিক ইনার পট, স্বয়ংক্রিয় কিপ-ওয়ার্ম ফাংশন,সহজ পরিষ্কার ব্যবস্থা, স্টাইলিশ ডিজাইন।
ক্যাপাসিটিঃ ১.৮ লিটার ভোল্টেজঃ ২২০-২৪০ ভোল্ট পাওয়ারঃ ৯৮০ ওয়াট ফ্রিকোয়েন্সিঃ ৫০-৬০ হার্টজ চাল রান্নার ধারণক্ষমতাঃ ৯০০ গ্রাম
Philips HD3132 Rice Cooker – আধুনিক ডিজাইন ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি একটি কার্যকরী রান্নার সহকারী। ২ লিটার ক্যাপাসিটি এবং ৮৭৫ ওয়াট শক্তিসম্পন্ন এই রাইস কুকারটি দ্রুত ও সমানভাবে ভাত রান্না করতে সক্ষম। সিলভার ও ব্ল্যাক ফিনিশিং-এর স্টাইলিশ ডিজাইন রান্নাঘরে আনে আভিজাত্যের ছোঁয়া। উন্নত 3D Heating প্রযুক্তি ও নন-স্টিক ইনার পট নিশ্চিত করে মসৃণ রান্নার অভিজ্ঞতা, যা প্রতিদিনের ব্যবহারকে আরও সহজ করে তোলে।
|
Philips HD3119/66 Rice Cooker |
![]() |
মূল বৈশিষ্ট্যঃ ৩ডি হিটিং সিস্টেম প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় কিপ ওয়ার্ম, ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ভাত গরম রাখে, ৫ স্তরের উন্নত অ্যান্টি-স্ক্র্যাচ লেপযুক্ত গোল্ডেন পাত্র।
ক্যাপাসিটিঃ ২.০ লিটার ভোল্টেজঃ ২৪০ ভোল্ট পাওয়ারঃ ৬৫০ ওয়াট রান্নার ধারণক্ষমতাঃ ১.০ কেজি
ফিলিপস HD3119/66 রাইস কুকার সহজ রান্না এবং চমৎকার ফলাফলের জন্য একটি আদর্শ পছন্দ। এর ২ লিটার ক্ষমতা ছোট পরিবার বা ঘনিষ্ঠ সমাবেশের জন্য উপযুক্ত। আকর্ষণীয় সবুজ রঙে ডিজাইন করা এটি আপনার রান্নাঘরকে উজ্জ্বল করে এবং আধুনিকতার ছোঁয়া যোগ করে। ৪০০ ওয়াট শক্তি ও স্মার্ট ডিজাইনের সাহায্যে এটি দ্রুত ভাত রান্না করে, যা রান্নার অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ সহজ করে তোলে। স্বয়ংক্রিয় "কিপ ওয়ার্ম" ফাংশন ভাতকে দীর্ঘ সময় গরম ও তাজা রাখে।
|
মূল্যঃ Philips ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেলের রাইস কুকারের দাম আনুমানিক ২,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ফিলিপস ১৮৯১ সালে নেদারল্যান্ডসে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড। ১৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি গুণমান ও উদ্ভাবনের জন্য পরিচিত। Philips বিশ্বখ্যাত একটি ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড, যা উন্নত প্রযুক্তির রাইস কুকার তৈরি করে। তাদের রাইস কুকারগুলো দীর্ঘস্থায়ী, শক্তিশালী এবং ব্যবহারকারী বান্ধব।
২. Panasonic Rice Cooker
প্যানাসনিক রাইস কুকার একটি উচ্চমানের রান্নার যন্ত্র, যা ভাত রান্নার অভিজ্ঞতাকে সহজ এবং নিখুঁত করে তোলে। জাপানি প্রযুক্তির এই ব্র্যান্ডটি ফাজি লজিক, ইন্ডাকশন হিটিং এবং মাল্টি-লেয়ার নন-স্টিক পাত্রের মতো উন্নত ফিচার দিয়ে সজ্জিত। এটি শুধু ভাতই নয়, পোরিজ, স্যুপ, স্টিমড খাবার এবং এমনকি ব্রাউন রাইসও রান্না করতে পারে। বাংলাদেশে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে কারণ এটি দ্রুত, সুবিধাজনক এবং ভাতের স্বাদ অটুট রাখে।
Panasonic Rice Cooker - এর মডেল সমূহ
Panasonic SR-GA721 Rice Cooker |
![]() |
মূল বৈশিষ্ট্যঃ স্টেইনলেস স্টিলের ঢাকনা, স্বয়ংক্রিয় কিপ ওয়ার্ম প্রযুক্তি, ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ভাত গরম রাখে, থার্মোস্ট্যাট নিখুঁত তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্টেইনলেস স্টিলের ঢাকনা, নন-স্টিক পাত্র।
ক্যাপাসিটিঃ ৭.২ লিটার রান্নার ধারণক্ষমতাঃ ৪০ কাপ (১৩ পাউন্ড বা ৬ কেজি) শক্তিঃ ২৫০০ ওয়াট ভোল্টেজঃ ২০৮V-৬০Hz ঢাকনাঃ স্টেইনলেস স্টিল
প্যানাসনিক SRGA721 রাইস কুকার ৭.২ লিটার ক্ষমতা ও ২৫০০ ওয়াট শক্তি দিয়ে ৪০ কাপ (৬ কেজি) চাল রান্না করে। থার্মোস্ট্যাট নিখুঁত রান্না নিশ্চিত করে, আর "কিপ ওয়ার্ম" ৫ ঘণ্টা ভাত গরম রাখে। NSF-প্রত্যয়িত এই মডেল ঘর ও বাণিজ্যে নিরাপদ। নন-স্টিক পাত্র সহজে পরিষ্কার হয়।
|
Panasonic SR-WM36 Rice Cooker |
![]() |
মূল বৈশিষ্ট্যঃ স্বয়ংক্রিয় কিপ ওয়ার্ম প্রযুক্তি, ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ভাত গরম রাখে, থার্মাল সেফটি ফিউজ, স্টেইনলেস স্টিলের ঢাকনা, নন-স্টিক পাত্র।
ক্যাপাসিটিঃ ৩.৬ লিটার (২০ কাপ) রান্নার ধারণক্ষমতাঃ ৫-২০ কাপ শক্তিঃ ১২০০ ওয়াট (রান্না), ৫৩ ওয়াট (কিপ ওয়ার্ম) পাত্রঃ অ্যানোডাইজড অ্যালুমিনিয়াম, নন-স্টিক ঢাকনাঃ স্টেইনলেস স্টিল
প্যানাসনিক SR-WM36 রাইস কুকার বড় পরিবার বা জমায়েতের জন্য একটি দুর্দান্ত সঙ্গী। ৩.৬ লিটার ক্ষমতা এবং ১২০০ ওয়াট শক্তি দিয়ে এটি দ্রুত ও নিখুঁতভাবে ভাত রান্না করে। স্টেইনলেস স্টিলের ঢাকনা এবং নন-স্টিক অ্যালুমিনিয়াম পাত্র রান্নাঘরে স্টাইল ও স্থায়িত্ব যোগ করে। এটি ৫ থেকে ২০ কাপ পর্যন্ত ভাত রান্না করতে পারে এবং ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত গরম রাখে।
|
মূল্যঃ Panasonic ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেলের রাইস কুকারের দাম আনুমানিক ৩,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৩,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
প্যানাসনিক একটি জাপানি ব্র্যান্ড, ১৯১৮ সালে কোনোসুকে মাতসুশিতা প্রতিষ্ঠিত। ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি গুণমান ও উদ্ভাবনের জন্য বিখ্যাত। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে প্যানাসনিক তার নির্ভরযোগ্যতা এবং উদ্ভাবনের জন্য জনপ্রিয়। রাইস কুকার, টিভি, এয়ার কন্ডিশনার থেকে শুরু করে ক্যামেরা—এর পণ্য গুণমান ও স্থায়িত্বের জন্য গ্রাহকদের কাছে পছন্দের শীর্ষে।
৩. Walton Rice Cooker
Walton রাইস কুকার বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য রান্নার যন্ত্র, যা ভাত রান্নাকে সহজ, দ্রুত এবং নিখুঁত করে। স্থানীয় প্রযুক্তির এই ব্র্যান্ডটি সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক ফিচার যেমন স্বয়ংক্রিয় কিপ ওয়ার্ম, নন-স্টিক পাত্র এবং স্টিমার দিয়ে সজ্জিত। এটি শুধু ভাত নয়, খিচুড়ি, স্টিমড খাবার এবং স্যুপও রান্না করতে পারে। বাংলাদেশে এর চাহিদা বাড়ছে কারণ এটি সুবিধাজনক, টেকসই এবং সাশ্রয়ী।
Walton Rice Cooker - এর মডেল সমূহ
Walton WRC-CANDY3.0 |
![]() |
মূল বৈশিষ্ট্যঃ দুইটি রান্নার মোড, চাল, পোরিজ ও স্যুপ রান্না করতে পারে, ইলেকট্রোথার্মাল তাপমাত্রা কন্ট্রোল perfect চাল রান্না নিশ্চিত করে, একসাথে রান্না ও স্টিমিং, নন-স্টিক কোটিং সুস্বাদু ও নন-স্টিক চাল দেয়, শক্তিশালী বাইরের শরীর এস্থেটিক ডিজাইন সহ।
ক্যাপাসিটিঃ ৩ লিটার শক্তিঃ ১০০০ ওয়াট ভোল্টেজঃ ২২০ V AC স্টিমারঃ স্টেইনলেস স্টিল
এটি একটি আধুনিক রাইস কুকার যা দুইটি রান্নার মোড অফার করে, চাল, পোরিজ ও স্যুপ রান্না করতে সক্ষম। ইলেকট্রোথার্মাল তাপমাত্রা কন্ট্রোল এর মাধ্যমে প্রতিবার perfect চাল রান্না নিশ্চিত হয়। একসাথে রান্না ও স্টিমিং করার সুবিধা এবং নন-স্টিক কোটিং সুস্বাদু ও নন-স্টিক চাল তৈরি করে। শক্তিশালী বাইরের শরীর এস্থেটিক ডিজাইনের সাথে।
|
Walton WRC-Gloria-Deluxe 2.8L |
![]() |
মূল বৈশিষ্ট্যঃ এলুমিনিয়াম এবং SS ইননার পট এর সংমিশ্রণ, একসাথে রান্না ও স্টিমিং সুবিধা, IEC-60335-2-15 স্ট্যান্ডার্ডে কম্প্যাটিবল ইলেকট্রনিক সেফটি, জার্মান স্ট্যান্ডার্ড নন-স্টিক কোটিং।
ক্যাপাসিটিঃ ২.৮ লিটার রান্নার ধারণক্ষমতাঃ ১.৮-২.০ কেজি শক্তিঃ ১০০০ ওয়াট পাত্রঃ অ্যালুমিনিয়াম, নন-স্টিক
এই রাইস কুকারটি ১.৮-২.০ কেজি আনকুকড চাল রান্না করতে উপযুক্ত। এতে রয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ও SS ইননার পটের সংমিশ্রণ, যা একসাথে রান্না ও স্টিমিং করার সুবিধা দেয়। IEC-60335-2-15 স্ট্যান্ডার্ড এর মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, এবং জার্মান স্ট্যান্ডার্ড নন-স্টিক কোটিং প্রতিবার নরম ও সুস্বাদু চাল রান্না করে। শক্তিশালী জয়েন্টবিহীন বাইরের শরীর প্রতিবার পারফেক্ট চাল রান্না নিশ্চিত করে।
|
মূল্যঃ Walton ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেলের রাইস কুকারের দাম আনুমানিক ২,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
Walton বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড, যা ১৯৭০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি সাশ্রয়ী মূল্যে গুণমান ও নির্ভরযোগ্যতার জন্য পরিচিত। বাংলাদেশে Walton রাইস কুকার তার স্থানীয় চাহিদা বোঝা এবং সাশ্রয়ী সমাধানের জন্য জনপ্রিয়।
৪. Miyako Rice Cooker
মিয়াকো রাইস কুকার বাংলাদেশে একটি জনপ্রিয় রান্নার যন্ত্র, যা ভাত রান্নাকে সহজ, দ্রুত এবং সুবিধাজনক করে। এটি নন-স্টিক পাত্র, স্বয়ংক্রিয় কিপ ওয়ার্ম ফাংশন এবং স্টিমিংয়ের মতো আধুনিক ফিচার দিয়ে সজ্জিত। শুধু ভাত নয়, এটি পোরিজ, স্টিমড খাবার এবং স্যুপও রান্না করতে পারে। বাংলাদেশের বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে কারণ এটি সাশ্রয়ী, টেকসই এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য উপযোগী।
Miyako Rice Cooker - এর মডেল সমূহ
MIYAKO ASL-300-KND Rice Cooker |
![]() |
মূল বৈশিষ্ট্যঃ স্টিম ফাংশন, পরিষ্কার করা সহজ, নন-স্টিক ইননার পট, টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার, অ্যালুমিনিয়াম রান্নার ২টি পাত্র।
ক্যাপাসিটিঃ ৩ লিটার শক্তিঃ ১০০০ ওয়াট ভোল্টেজঃ ২২০-২৪০ V পাত্রঃ অ্যালুমিনিয়াম
এই রাইস কুকারে রয়েছে স্টিম ফাংশন, পতলা নন-স্টিক ইননার পট, এবং অ্যালুমিনিয়াম রান্নার ২টি পাত্র, যা রান্নাকে আরো সহজ এবং দ্রুত করে। টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং পরিষ্কার করা সহজ। এটি একটি পারফেক্ট কুকিং এক্সপেরিয়েন্স প্রদান করে, যা প্রতিবার সুস্বাদু চাল রান্না করে।
|
Miyako ASL-3P-300 YLD Rice Cooker |
![]() |
মূল বৈশিষ্ট্যঃ সহজ ব্যবহারের জন্য ৩টি পাত্র এবং ১টি স্টিমার অন্তর্ভুক্ত, উচ্চ তাপমাত্রা সুরক্ষা ও শক্তি সঞ্চয়, মেপিং কাপ ও চামচ, সহজ এবং দ্রুত রান্না, কিপ ওয়ার্ম ফাংশন, স্টিম ফাংশন
ক্যাপাসিটি: ৩ লিটার রান্নার ধারণক্ষমতাঃ ১.৮-২.০ কেজি শক্তিঃ ১০০০ ওয়াট লিড টাইপ: গ্লাস লিড কিপ ওয়ার্ম স্থায়িত্ব: ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ভোল্টেজ: ২২০-২৪০V, ৫০/৬০Hz
এই রাইস কুকারটি ১.৮-২.০ কেজি আনকুকড চাল রান্না করতে উপযুক্ত। এতে রয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ও SS ইননার পটের সংমিশ্রণ, যা একসাথে রান্না ও স্টিমিং করার সুবিধা দেয়। IEC-60335-2-15 স্ট্যান্ডার্ড এর মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, এবং জার্মান স্ট্যান্ডার্ড নন-স্টিক কোটিং প্রতিবার নরম ও সুস্বাদু চাল রান্না করে। শক্তিশালী জয়েন্টবিহীন বাইরের শরীর প্রতিবার পারফেক্ট চাল রান্না নিশ্চিত করে।
|
মূল্যঃ Miyako ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেলের রাইস কুকারের দাম আনুমানিক ২,৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
মিয়াকো বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির ব্র্যান্ড, যা মিয়াকো অ্যাপ্লায়েন্স লিমিটেডের অধীনে পরিচালিত হয়। এটি ১৯৯০-এর দশকে মোহাম্মদ ইদ্রিস প্রতিষ্ঠা করেন, যিনি জাপানি নাম "মিয়াকো" বেছে নেন জাপানি পণ্যের জনপ্রিয়তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। ২০০৮ সাল থেকে ড. মোহাম্মদ নাভিদ আহমেদ এটি পরিচালনা করছেন। বর্তমানে এর ৪৫০টির মধ্যে ৪০০টি পণ্য চীন, তুরস্ক, ভারত থেকে আমদানি করা হয়, ৪৩টি স্থানীয়ভাবে একত্রিত এবং ৭টি উৎপাদিত হয়।
সেরা Rice Cooker মডেলের তুলনা
মডেল |
Philips HD3038 |
Panasonic SR-GA721 |
WRC-CANDY3.0 |
MIYAKO ASL-300-KND |
ব্র্যান্ড |
Philips |
Panasonic |
Walton |
Miyako |
দাম (টাকা) |
১২,৪৫০ |
১৯,৬০০ |
৫,৪০০ |
৪,২০০ |
মূল বৈশিষ্ট্য |
উন্নত 3D হিটিং প্রযুক্তি, ৫ গুণ শক্তিশালী নন-স্টিক ইনার পট, স্বয়ংক্রিয় কিপ-ওয়ার্ম ফাংশন। |
স্টেইনলেস স্টিলের ঢাকনা, স্বয়ংক্রিয় কিপ ওয়ার্ম প্রযুক্তি, ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত গরম রাখে, থার্মোস্ট্যাট, নন-স্টিক পাত্র। |
দুইটি মোডে রান্নার সুবিধা, ইলেকট্রোথার্মাল কন্ট্রোলে নিখুঁত রান্না, একসাথে রান্না ও স্টিমিং। |
স্টিম ফাংশন, সহজ পরিষ্কার, নন-স্টিক ইননার পট, টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী, অ্যালুমিনিয়ামের ২টি রান্নার পাত্র। |
ক্যাপাসিটি |
১.৮ লিটার |
৭.২ লিটার |
৩ লিটার |
৩ লিটার |
পাওয়ার |
৯৮০ ওয়াট |
২৫০০ ওয়াট |
১০০০ ওয়াট |
১০০০ ওয়াট |
রান্নার ধারণক্ষমতা |
৯০০ গ্রাম |
৬ কেজি |
১.৮-২.০ কেজি |
১.৮-২.০ কেজি |
উৎপত্তি |
নেদারল্যান্ডস |
জাপান |
বাংলাদেশ |
বাংলাদেশ |
বাংলাদেশের জন্য সেরা Rice Cooker সুপারিশ
বাংলাদেশের জন্য সেরা Rice Cooker নির্ভর করে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন, বাজেট এবং ফিচারের ওপর।
যদি আপনি বাজেট-বান্ধব ও সাধারণ ব্যবহারের জন্য একটি রাইস কুকার চান, তাহলে MIYAKO ASL-300-KND (৳4,200) একটি ভালো অপশন। এটি স্টিম ফাংশন, নন-স্টিক ইননার পট এবং টেকসই ডিজাইনসহ আসে। ৩ লিটার ক্যাপাসিটির এই কুকারটি ১০০০ ওয়াট শক্তিসম্পন্ন এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।
আরেকটি ভালো বাজেট বিকল্প হতে পারে Walton WRC-CANDY3.0 (৳5,400)। এটি দুটি রান্না মোড, স্টিমিং ও রান্নার সুবিধা দেয় এবং ১.৮-২.০ কেজি চাল রান্না করতে পারে। দেশীয় ব্র্যান্ড হওয়ায় এটি সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী মূল্যের।
যদি আপনি বড় পরিবার বা রেস্টুরেন্টের জন্য একটি শক্তিশালী রাইস কুকার চান, তাহলে Panasonic SR-GA721 (৳19,600) সেরা পছন্দ হতে পারে। এটি ৭.২ লিটার বিশাল ধারণক্ষমতা এবং ২৫০০ ওয়াট শক্তিসম্পন্ন হওয়ায় একবারে ৬ কেজি চাল রান্না করতে সক্ষম। এছাড়া, এতে স্টেইনলেস স্টিলের ঢাকনা এবং ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ভাত গরম রাখার সুবিধা রয়েছে।
উন্নত ফিচার ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্য Philips HD3038 (৳12,450) একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এটি উন্নত 3D হিটিং প্রযুক্তি, ৫ গুণ শক্তিশালী নন-স্টিক ইননার পট এবং স্বয়ংক্রিয় কিপ-ওয়ার্ম ফাংশনসহ আসে। ব্র্যান্ডেড এবং নির্ভরযোগ্য হওয়ায় এটি দীর্ঘ সময় ব্যবহার উপযোগী।
সংক্ষেপে, Walton WRC-CANDY3.0 দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ভালো, Panasonic SR-GA721 বড় পরিবারের জন্য উপযুক্ত, আর Philips HD3038 স্মার্ট ও উন্নত ফিচারের জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে।
বাংলাদেশে Rice Cooker এর জনপ্রিয় ব্র্যান্ডসমূহের তুলনা
বাংলাদেশে রাইস কুকার একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় গৃহস্থালী উপকরণ, যা বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলে পাওয়া যায়। নিচে কয়েকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
ব্র্যান্ড |
পরিচিতি |
গুণগত মান |
বাজারমূল্য |
Philips |
বিশ্বখ্যাত ডাচ ব্র্যান্ড, উন্নত প্রযুক্তি ও টেকসই পণ্য তৈরি করে |
উন্নত 3D হিটিং, শক্তিশালী নন-স্টিক পাত্র, দীর্ঘস্থায়ী |
উচ্চ মূল্যের মধ্যে পড়ে |
Panasonic |
জাপানি ব্র্যান্ড, উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ |
নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী, শক্তিশালী থার্মোস্ট্যাট |
মধ্য থেকে উচ্চ মূল্য |
Walton |
বাংলাদেশের স্থানীয় ব্র্যান্ড, সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য |
স্থানীয় বাজার উপযোগী, ভালো মানের নন-স্টিক পাত্র |
সাশ্রয়ী মূল্য |
Miyako |
বাংলাদেশে জনপ্রিয়, বাজেট-বান্ধব গৃহস্থালী পণ্য সরবরাহ করে |
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, টেকসই, সহজ পরিষ্কার ব্যবস্থা |
সাশ্রয়ী মূল্য |
কাস্টমার রিভিউ ও ফিডব্যাক
"Philips HD3038 rice cooker has a premium build, and the same goes for the included accessories. It works perfectly every time—no more burnt rice. The only downside I've noticed is that it doesn't have a drain container, so whenever you open the lid, some steam water drips at the back. However, the plug is positioned further inward at the back, so I don't think the steam water flow will affect it."
– Dr. Hanan, Dubai
Source: Amazon
"Panasonic SR-GA721 is by far the best cooker we have had it lasted a few years. We cook about 25lbs during the week and 30lbs to 40lbs on the weekend. We have 2 different cookers and this one was old reliable until it finally went out. I definitely got my money work"
– Fran G.
Source: Webstaurant Store
Rice Cooker কেনার আগে যা যা জানতে হবে?
১. ধারণক্ষমতা (Capacity)
রাইস কুকারের ধারণক্ষমতা পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে। ছোট পরিবারের জন্য ০.৫-১.৫ লিটার, মাঝারি পরিবারের জন্য ১.৫-৩ লিটার এবং বড় পরিবারের জন্য ৩-৫ লিটারের কুকার সবচেয়ে উপযোগী।
২. প্রকারভেদ (Type)
বাজারে বেসিক রাইস কুকার, মাল্টি-ফাংশনাল কুকার, প্রেসার কুকার কাম রাইস কুকার এবং ইন্ডাকশন হিটিং কুকার পাওয়া যায়। শুধুমাত্র ভাত রান্নার জন্য সাধারণ কুকার যথেষ্ট হলেও, স্টিমিং বা মাল্টি-কুকিংয়ের জন্য উন্নত মডেল নির্বাচন করা ভালো।
৩. শক্তি এবং বিদ্যুৎ খরচ (Power Consumption)
সাধারণত রাইস কুকারের পাওয়ার ৩০০-১০০০ ওয়াটের মধ্যে হয়ে থাকে। বেশি ওয়াটের কুকার দ্রুত রান্না করতে পারে, তবে বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক বেশি হয়। কিপ ওয়ার্ম ফাংশন বিদ্যুৎ খরচ বাড়াতে পারে, তাই কেনার আগে বিদ্যুৎ ব্যয়ের দিকটি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
৪. উপাদান এবং গুণমান (Material & Build Quality)
ইনার পট সাধারণত নন-স্টিক লেয়ারযুক্ত অ্যালুমিনিয়াম বা স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে। নন-স্টিক থাকলে পরিষ্কার করা সহজ হয়, আর স্টেইনলেস স্টিল বেশি টেকসই। কুকারের বাইরের অংশ প্লাস্টিক বা স্টিল দিয়ে তৈরি হতে পারে, যেখানে স্টিলের বডি বেশি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী।
৫. ফিচারস (Features)
উন্নত রাইস কুকারে টাইমার, অটো শাট-অফ, ওয়ার্মিং ফাংশন এবং স্টিমার ট্রে থাকে। ডিজিটাল টাইমার রান্নার সময় নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, অটো শাট-অফ রান্না শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়, এবং ওয়ার্মিং ফাংশন ভাতকে দীর্ঘক্ষণ গরম রাখে।
৬. ব্র্যান্ড এবং ওয়ারেন্টি (Brand & Warranty)
বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড যেমন Panasonic, Philips, Miyako, Walton ইত্যাদির কুকার বেছে নেওয়া উচিত। কমপক্ষে ১-২ বছরের ওয়ারেন্টি থাকলে পণ্যটিতে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনে মেরামতের সুবিধাও পাওয়া যায়।
৭. বাজেট (Budget)
সাধারণ রাইস কুকারের দাম ১,০০০-৩,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়, যেখানে উন্নত ফিচারসহ কুকারের দাম ৫,০০০-১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। প্রয়োজন ও বাজেটের মধ্যে ভারসাম্য রেখে কেনার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
৮. ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের সহজতা
রাইস কুকারের বোতাম ও ডিসপ্লে সহজে বোঝার মতো হতে হবে, যাতে ব্যবহার করতে সমস্যা না হয়। ইনার পট এবং অন্যান্য অংশ সহজে পরিষ্কার করা যায় কিনা সেটাও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
৯. রিভিউ এবং রেটিং
অনলাইনে বিভিন্ন রাইস কুকারের গ্রাহক রিভিউ এবং রেটিং দেখে কেনার আগে একটি ভালো ধারণা নেওয়া উচিত। বাজারের জনপ্রিয় মডেল সম্পর্কে জানার জন্য বিক্রেতার কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
১০. অতিরিক্ত টিপস
কুকারের সাইজ রান্নাঘরের জায়গার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। বৈদ্যুতিক সংযোগের ক্ষেত্রে প্লাগ ও ভোল্টেজ বাসার সংযোগের সাথে মানানসই কিনা তা যাচাই করা উচিত। সঠিক ব্র্যান্ড এবং ভালো মানের নন-স্টিক বা স্টেইনলেস স্টিল পাত্রের কুকার কিনলে এটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাবে।
রাইস কুকার কেনার আগে আপনার পরিবারের প্রয়োজন, রান্নার পরিমাণ, বাজেট ও প্রয়োজনীয় ফিচার বিবেচনা করুন। একটি ভালো ব্র্যান্ড ও নন-স্টিক বা স্টেইনলেস স্টিল পাত্রের কুকার কিনলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাবে।
উপসংহার
রাইস কুকার বাংলাদেশের প্রতিটি রান্নাঘরে একটি অমূল্য সংযোজন হয়ে উঠেছে, যা দৈনন্দিন ভাত রান্নাকে সহজ এবং আনন্দদায়ক করে তুলছে। Philips-এর উন্নত প্রযুক্তি, Panasonic-এর শক্তিশালী পারফরম্যান্স, Walton-এর সাশ্রয়ী সমাধান এবং Miyako-র বাজেট-বান্ধব বৈচিত্র্য—প্রতিটি ব্র্যান্ডই আপনার নির্দিষ্ট চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত। আপনি ছোট পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী কিছু খুঁজছেন বা বড় জমায়েতের জন্য শক্তিশালী একটি যন্ত্র চান, এই ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে আপনার জন্য উপযুক্ত একটি রাইস কুকার অবশ্যই রয়েছে। তাই আপনার প্রয়োজন ও বাজেট বিবেচনা করে সঠিক মডেলটি বেছে নিন এবং রান্নার অভিজ্ঞতাকে আরও সুন্দর ও সুবিধাজনক করে তুলুন।