বাজেটের মধ্যে সেরা মনিটর এবং এগুলোর ব্র্যান্ড, মডেল, দাম, রিভিউ ও সুপারিশ

এক যুগ আগেও কম্পিউটার কেনার সময় আমাদের সমস্ত মনোযোগ থাকত সিপিইউ-এর গতি, র‍্যামের পরিমাণ বা হার্ডডিস্কের ধারণক্ষমতার উপর। মনিটর ছিল সেই তালিকার প্রায় উপেক্ষিত একটি অংশ। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ আমরা বুঝতে শিখেছি, কম্পিউটারের ভেতরে থাকা শক্তিশালী যন্ত্রাংশের জাদুর চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটে মনিটরের পর্দায়। এটি শুধু একটি আউটপুট ডিভাইস নয়; এটি আমাদের ডিজিটাল পৃথিবীর জানালা।

আপনি একজন পেশাদার গ্রাফিক ডিজাইনার হোন, হার্ডকোর গেমার, অফিসের কর্মী অথবা একজন শিক্ষার্থী, একটি সঠিক মনিটর আপনার কাজের গতি, চোখের আরাম এবং বিনোদনের অভিজ্ঞতাকে নিয়ে যেতে পারে এক নতুন উচ্চতায়। অন্যদিকে, একটি ভুল মনিটর হতে পারে চোখ ব্যথা, মাথা ধরা এবং খারাপ পারফরম্যান্সের কারণ।

বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, প্রযুক্তি আর দামের বিশাল সমাহার থেকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সেরা মনিটরটি খুঁজে বের করা প্রায়শই একটি কঠিন কাজ। তাই আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ সহজ করতে, এই প্রবন্ধে আমরা মনিটরের খুঁটিনাটি বিষয় থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সেরা ব্র্যান্ড ও মডেলগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

মনিটর কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

মনিটর হলো এমন একটি আউটপুট ডিভাইস, যার মাধ্যমে আমরা কম্পিউটারের ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট দেখতে পাই। এটি কেবল কাজ করার যন্ত্র নয়, বরং আমাদের চোখের আরাম, কাজের মান এবং বিনোদনের অভিজ্ঞতার সাথে সরাসরি যুক্ত। অফিসের সাধারণ কাজ, প্রোগ্রামিং, ডিজাইনিং, গেমিং বা মুভি প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটি ভালো মনিটরের গুরুত্ব অপরিসীম।

মনিটরকে কেবল একটি ডিসপ্লে ভাবলে ভুল হবে। এর গুরুত্ব এবং কাজ আরও অনেক ব্যাপকঃ

  • কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিঃ একটি বড় এবং হাই-রেজোলিউশন মনিটর মাল্টিটাস্কিংকে সহজ করে তোলে। একই সাথে একাধিক উইন্ডো খুলে কাজ করা যায়, যা আপনার সময় বাঁচায় এবং কাজের গতি বাড়ায়।
  • চোখের সুরক্ষাঃ আধুনিক মনিটরগুলোতে থাকা Flicker-Free এবং Low Blue Light প্রযুক্তির মতো ফিচারগুলো দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের ফলে চোখের উপর সৃষ্ট চাপ কমায়।
  • সঠিক রঙের প্রতিফলনঃ গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং বা ফটোগ্রাফির মতো পেশায় রঙের সঠিক প্রতিফলন অপরিহার্য। একটি কালার-অ্যাকুরেট মনিটর নিশ্চিত করে যে আপনি যা দেখছেন, প্রিন্ট বা চূড়ান্ত আউটপুটেও তাই আসবে।
  • বাস্তবসম্মত গেমিং ও বিনোদনঃ উচ্চ রিফ্রেশ রেট, কম রেসপন্স টাইম এবং HDR প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি মনিটর গেমিং এবং সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও বাস্তবসম্মত।

মনিটরের প্রধান ধরণ

মনিটরের প্রধান ধরণগুলো প্রযুক্তি ও ব্যবহারের ধরনের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রকমের হয়, এবং আপনার নির্দিষ্ট চাহিদার জন্য সঠিক মনিটর বেছে নেওয়ার জন্য এগুলো বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১. LCD (Liquid Crystal Display) মনিটর

LCD মনিটর বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে সাধারণ। এগুলো হালকা, কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং দামে সাশ্রয়ী, তাই সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য দারুণ। তবে এদের রঙের গভীরতা ও দেখার কোণ কিছুটা সীমিত হতে পারে।

২. LED (Light Emitting Diode) মনিটর

LED মনিটর হচ্ছে LCD-এর আরও উন্নত ভার্সন। এগুলো LED ব্যাকলাইট ব্যবহার করে, যার ফলে ছবি বেশি উজ্জ্বল হয় এবং বিদ্যুৎও কম খরচ হয়। বর্তমানে বাজারের বেশিরভাগ মনিটরই LED প্রযুক্তির।

৩. IPS (In-Plane Switching) মনিটর

IPS মনিটর রঙের বাস্তবসম্মত উপস্থাপনার জন্য সেরা। এর প্রধান শক্তি হলো অসাধারণ কালার অ্যাকুরেসি এবং ওয়াইড ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল, যা নিশ্চিত করে যে আপনি পাশ থেকে দেখলেও ছবির রঙ একই রকম উজ্জ্বল ও সঠিক থাকবে। গ্রাফিক ডিজাইনার, ফটোগ্রাফার এবং যেকোনো সৃজনশীল পেশাজীবীর জন্য এটিই সেরা পছন্দ।

৪. VA (Vertical Alignment) মনিটর

VA মনিটর উচ্চ কনট্রাস্ট রেশিওর জন্য বিখ্যাত, যেখানে কালো রঙ খুব গভীর ও সমৃদ্ধ দেখায়। মুভি দেখা বা মিডিয়া উপভোগের জন্য এটি দারুণ পছন্দ।

৫. OLED মনিটর

OLED মনিটর হচ্ছে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি। এখানে প্রতিটি পিক্সেল নিজে থেকে আলো তৈরি করে, ফলে রঙ অসাধারণ জীবন্ত এবং কনট্রাস্ট অতুলনীয় হয়। তবে এগুলোর দাম এখনও অনেক বেশি।

৬. কার্ভড মনিটর

কার্ভড মনিটর বড় স্ক্রিনে ইমারসিভ অভিজ্ঞতা দেয়, যা গেমিং বা মুভি দেখার জন্য দারুণ। এর বাঁকা ডিজাইন চোখের আরাম বাড়ায়।

৭. গেমিং মনিটর

গেমিং মনিটর, যা বিশেষভাবে গতির ঝড় তোলার জন্য তৈরি। এগুলোতে থাকা অত্যন্ত উচ্চ রিফ্রেশ রেট (যেমন 144Hz বা 240Hz) গেমপ্লেকে করে তোলে মাখনের মতো মসৃণ এবং প্রায় তাৎক্ষণিক রেসপন্স টাইম (1ms) দ্রুতগতির দৃশ্যে ছবি ঝাপসা হওয়া বা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো দূর করে দেয়। যেকোনো সিরিয়াস গেমারের জন্য এটি একটি অপরিহার্য যন্ত্র।

৮. আল্ট্রাওয়াইড মনিটর

আল্ট্রাওয়াইড মনিটর প্রথাগত মনিটরের চেয়ে অনেক বেশি চওড়া হয়, যা মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য এক বিশাল ক্যানভাস তৈরি করে দেয়। দুটি মনিটরের ঝামেলা ছাড়াই আপনি পাশাপাশি একাধিক অ্যাপ্লিকেশন খুলে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারবেন, যা ভিডিও এডিটর বা প্রোগ্রামারদের জন্য আশীর্বাদের মতো।

মনিটর কেনার আগে যা যা জানতে হবে 

বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন দাম ও প্রযুক্তির ভিড়ে সঠিক মনিটরটি বেছে নেওয়া বেশ কঠিন। তাই আপনার সিদ্ধান্ত সহজ করতে, নিচে এমন কিছু জরুরি বিষয় তুলে ধরা হলো, যা মাথায় রাখলে আপনার টাকা এবং চোখের স্বাস্থ্য, দুটোই সুরক্ষিত থাকবে।

আপনার ব্যবহারের ধরন জানুন

সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, মনিটরটি কী কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হবে? আপনার কাজের ধরনের ওপরই নির্ভর করবে কোন প্রযুক্তির মনিটর প্রয়োজন। সাধারণ অফিস বা পড়াশোনার জন্য একরকম, গেমিংয়ের জন্য আরেকরকম, আবার গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন মনিটর লাগে। আপনার মূল ব্যবহার কোনটি, তা ঠিক করতে পারলে বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে যাবে।

স্ক্রিন সাইজ ও রেজোলিউশন

স্ক্রিন যত বড় হয়, একসাথে তত বেশি কনটেন্ট দেখা যায়, আর রেজোলিউশন ভালো হলে ছবির স্পষ্টতা বাড়ে। ছোট কাজ বা সাধারণ অফিসের জন্য ২১ থেকে ২৪ ইঞ্চি ফুল এইচডি যথেষ্ট। কিন্তু যদি আপনি মাল্টিটাস্কিং, ভিডিও এডিটিং বা ডিজাইন নিয়ে কাজ করেন, তাহলে বড় স্ক্রিনের সাথে কিউএইচডি নেওয়া ভালো। আর গেমার বা হাই-এন্ড ইউজারদের জন্য ২৭ থেকে ৩২ ইঞ্চি 4K ডিসপ্লে দারুণ অভিজ্ঞতা দেবে।

প্যানেলের প্রযুক্তি (IPS, VA, TN)

মনিটরের ছবির মান কেমন হবে, তা নির্ভর করে প্যানেল প্রযুক্তির ওপর। IPS প্যানেল সেরা রঙ এবং ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল দেয়, যা ডিজাইনারদের জন্য সেরা। VA প্যানেলের কনট্রাস্ট সবচেয়ে ভালো, তাই সিনেমা দেখার জন্য এটি দারুণ। আর TN প্যানেল সবচেয়ে দ্রুতগতির, যা প্রফেশনাল গেমারদের প্রথম পছন্দ। আপনার প্রয়োজন বুঝে সঠিক প্যানেলটি বেছে নিন।

রিফ্রেশ রেট ও রেসপন্স টাইম

রিফ্রেশ রেট ঠিক করে দেয় স্ক্রিনে ছবি কতটা মসৃণভাবে চলবে। অফিস কাজ বা সাধারণ ব্যবহারে ৬০ থেকে ৭৫ হার্টজ যথেষ্ট। তবে যারা গেম খেলেন, তাদের জন্য অন্তত ১২০ বা ১৪৪ হার্টজ দরকার, আর চাইলে ২৪০ হার্টজ পর্যন্ত নেওয়া যায়। রেসপন্স টাইমও জরুরি, কারণ এটি যত কম হবে (১ থেকে ৫ মিলিসেকেন্ড), ছবি তত দ্রুত এবং স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, বিশেষ করে গেমিংয়ের সময়।

কানেক্টিভিটি

মনিটর কেনার আগে দেখে নিতে হবে এতে কী কী পোর্ট আছে। সাধারণত HDMI আর DisplayPort থাকে, যেগুলো ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। ম্যাকবুক বা নতুন ল্যাপটপ ব্যবহার করলে ইউএসবি-সি পোর্ট থাকা সুবিধাজনক, কারণ একই তার দিয়ে চার্জ আর ডিসপ্লে দুটোই পাওয়া যায়। যদি একাধিক ডিভাইস ব্যবহার করতে চান, তাহলে বাড়তি HDMI বা DisplayPort থাকলে আরও ভালো হয়।

চোখের সুরক্ষা

যারা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে থাকেন, তাদের জন্য চোখের সুরক্ষা ফিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্লিকার-ফ্রি টেকনোলজি স্ক্রিনের অদৃশ্য ঝিলিক কমায় এবং ব্লু লাইট ফিল্টার চোখের চাপ ও মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এসব ফিচার থাকলে দীর্ঘ সময় কাজ করেও চোখের ক্লান্তি তুলনামূলকভাবে কম হয়।

ডিজাইন ও স্ট্যান্ড

মনিটর শুধু ভালো ডিসপ্লেই নয়, ব্যবহারেও আরামদায়ক হতে হবে। অনেক মডেলে অ্যাডজাস্টেবল স্ট্যান্ড থাকে, যেটা উঁচু-নিচু করা বা সামনের দিকে ঝোঁকানো যায়, ফলে বসার ভঙ্গির সাথে স্ক্রিন মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। যারা ছোট জায়গায় ব্যবহার করবেন, তাদের জন্য ওয়াল মাউন্টের সুবিধা থাকাও বড় একটি সুবিধা।

বাজেট ও ব্যবহার

কী উদ্দেশ্যে মনিটর কিনছেন, সেটা বাজেট নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। সাধারণ অফিসের কাজ বা পড়াশোনার জন্য ৮ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ভালো মানের মনিটর পাওয়া যায়। কিন্তু যদি পেশাদার ডিজাইন বা ভিডিও এডিটিং করতে হয়, তাহলে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ ধরতে হবে। গেমিং বা হাই-এন্ড কাজের জন্য আরও বেশি বাজেট প্রয়োজন হতে পারে।

ব্র্যান্ড ও ওয়ারেন্টি

মনিটরের ক্ষেত্রে নামকরা ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া নিরাপদ, কারণ এতে সার্ভিস আর রিপ্লেসমেন্ট সহজে পাওয়া যায়। LG, Dell, HP, Samsung, ASUS, Acer বা MSI-এর মতো ব্র্যান্ড বাংলাদেশে জনপ্রিয়। কেনার সময় অন্তত এক থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি আছে কিনা সেটা নিশ্চিত করা উচিত, বিশেষ করে প্যানেল রিপ্লেসমেন্ট কভার করলে আরও ভালো।

স্পিকার ও অতিরিক্ত ফিচার

সব মনিটরে বিল্ট-ইন স্পিকার থাকে না, আর থাকলেও মান সাধারণ হয়। তাই ভালো সাউন্ড চাইলে আলাদা স্পিকার ব্যবহার করাই ভালো। গেম খেলার জন্য যদি নেন, তাহলে G-Sync বা FreeSync প্রযুক্তি থাকলে গেমপ্লে আরও স্মুথ হবে। কিছু প্রিমিয়াম মডেলে ইউএসবি হাব বা কার্ড রিডারের সুবিধাও থাকে, যেগুলো অনেক সময় বাড়তি সুবিধা দেয়।

গ্রাহক রিভিউ

কোনো পণ্যের আসল মান বোঝা যায় ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা থেকে। তাই কেনার আগে অনলাইনে রিভিউ পড়ে নিন অথবা পরিচিত কারও কাছ থেকে মতামত জেনে নিন। এতে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে পণ্যটি আপনার চাহিদার সাথে সত্যিই মানানসই কি না।

একটি মনিটর কেনা মানে শুধু একটি ডিভাইস কেনা নয়, এটি আপনার কাজ, বিনোদন এবং স্বাস্থ্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই একটু সময় নিয়ে, এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আপনার প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সেরা পণ্যটি বেছে নিন।

Best Monitor - বাংলাদেশের বাজারে Monitor-এর শীর্ষ মডেল ও ব্র্যান্ড

বাংলাদেশের বাজারে অসংখ্য ব্র্যান্ড ও মডেলের ভিড়ে নিজের বাড়ির জন্য সঠিক রাউটারটি খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। তাই আপনার সিদ্ধান্ত সহজ করতে, আমরা আলোচনা করব ২০২৫ সালের সেরা কিছু রাউটার নিয়ে:

১. HP Monitor

HP (Hewlett-Packard) কম্পিউটার এবং পেরিফেরাল জগতে একটি বিশ্বস্ত এবং সুপরিচিত নাম। নির্ভরযোগ্যতা, প্রফেশনাল ডিজাইন এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্সের জন্য এইচপি মনিটরগুলো বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে কর্পোরেট অফিস এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। তাদের প্রোডাক্ট লাইনে রয়েছে দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে প্রফেশনাল কনটেন্ট ক্রিয়েশন এবং হাই-এন্ড গেমিং পর্যন্ত প্রতিটি প্রয়োজনের জন্য মানানসই মনিটর।

HP Monitor - এর মডেল সমূহ 

HP Series 5 Pro 534pm 34 Inch UWQHD Professional Monitor

Image

মূল্য: প্রায় ৳ ৯৭,০০০

মূল বৈশিষ্ট্যঃ ৩৪ ইঞ্চি আল্ট্রাওয়াইড 3K (3440x1440) ডিসপ্লে, ১০০Hz রিফ্রেশ রেট, বিল্ট-ইন KVM সুইচ, USB-C হাব (65W পাওয়ার ডেলিভারিসহ), এবং আর্গোনোমিক অ্যাডজাস্টেবল স্ট্যান্ড।


সাইজ: ৩৪ ইঞ্চি

প্যানেল: IPS

রেজোলিউশন: UWQHD (3440x1440)

রিফ্রেশ রেট: ১০০Hz

পোর্ট: HDMI, DisplayPort, USB-C (65W PD), USB Hub

প্রযুক্তি: KVM Switch, Ergonomic Stand, Low Blue Light


HP Series 5 Pro 534pm তাদের জন্য একটি আদর্শ সমাধান, যারা মাল্টিটাস্কিং এবং প্রফেশনাল কাজের জন্য একটি বিশাল ওয়ার্কস্পেস চান। এর আল্ট্রাওয়াইড ডিসপ্লে একাধিক উইন্ডো পাশাপাশি রেখে কাজ করাকে অত্যন্ত সহজ করে তোলে। USB-C পোর্টের মাধ্যমে একটি মাত্র কেবলে ল্যাপটপ চার্জ করা এবং ডেটা ট্রান্সফার করা যায়। বিল্ট-ইন KVM সুইচের সাহায্যে আপনি একই কিবোর্ড ও মাউস দিয়ে দুটি ভিন্ন কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, যা ওয়ার্কফ্লোকে আরও গতিশীল করে তোলে।

HP OMEN 24 23.8" 165Hz FHD IPS Gaming Monitor

Image

মূল্য: প্রায় ৳ ২৫,০০০

মূল বৈশিষ্ট্যঃ ১৬৫Hz হাই রিফ্রেশ রেট, ১ms GtG রেসপন্স টাইম, AMD FreeSync™ Premium প্রযুক্তি, VESA Certified ClearMR 5000 এবং চমৎকার কালার অ্যাকুরেসি (99% sRGB)।


সাইজ: ২৩.৮ ইঞ্চি

প্যানেল: IPS

রেজোলিউশন: FHD (1920x1080)

রিফ্রেশ রেট: ১৬৫Hz

রেসপন্স টাইম: ১ms GtG

প্রযুক্তি: AMD FreeSync™ Premium, VESA ClearMR 5000, 99% sRGB


HP OMEN 24 বাংলাদেশের বাজারে গেমারদের জন্য একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী মনিটর। এটি সাশ্রয়ী মূল্যে ১৬৫Hz রিফ্রেশ রেট এবং ১ms রেসপন্স টাইমের মতো প্রিমিয়াম গেমিং ফিচার প্রদান করে, যা দ্রুতগতির গেমে স্মুথ এবং ল্যাগ-ফ্রি অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। IPS প্যানেল ব্যবহারের কারণে এর কালারগুলো খুবই জীবন্ত, তাই এটি শুধু গেমিং নয়, কনটেন্ট দেখার জন্যও একটি চমৎকার পছন্দ।

HP M22f 22" FHD IPS Monitor

Image

মূল্য: প্রায় ৳ ১৬,০০০

মূল বৈশিষ্ট্যঃ স্লিম ও স্টাইলিশ ডিজাইন, 99% sRGB কালার গামুট, AMD FreeSync প্রযুক্তি, ৭৫Hz রিফ্রেশ রেট এবং চোখের আরামের জন্য HP Eye Ease with Eyesafe® সার্টিফাইড লো ব্লু লাইট মোড।


সাইজ: ২১.৫ ইঞ্চি

প্যানেল: IPS

রেজোলিউশন: FHD (1920x1080)

রিফ্রেশ রেট: ৭৫Hz

পোর্ট: ১ x HDMI ১.৪, ১ x VGA

প্রযুক্তি: AMD FreeSync, Low Blue Light, 99% sRGB


HP M22f তাদের জন্য সেরা পছন্দ, যারা দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা বা সাধারণ বিনোদনের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য এবং বাজেট-বান্ধব মনিটর খুঁজছেন। এর IPS প্যানেল এই মূল্যশ্রেণিতে চমৎকার এবং সঠিক রঙ প্রদর্শন করে। আধুনিক স্লিম বেজেলের ডিজাইন যেকোনো ডেস্ককে একটি পরিচ্ছন্ন ও প্রিমিয়াম লুক দেয়। ৭৫Hz রিফ্রেশ রেট এবং FreeSync প্রযুক্তি এটিকে হালকা গেমিংয়ের জন্যও উপযুক্ত করে তুলেছে।

HP হলো একটি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড, যা তার গুণমান, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং প্রফেশনাল ডিজাইনের জন্য পরিচিত। কর্পোরেট জগৎ থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহারকারী এবং গেমার পর্যন্ত, প্রায় সব ধরনের গ্রাহকের চাহিদা মেটানোর জন্য তাদের কাছে বিভিন্ন দাম ও ফিচারের মনিটর রয়েছে, যা ব্র্যান্ডটিকে বাংলাদেশের বাজারে একটি আস্থার নাম করে তুলেছে।

২. Asus Monitor

গেমিং, ইনোভেশন এবং হাই-পারফরম্যান্সের জগতে ASUS একটি শীর্ষস্থানীয় নাম। বিশেষ করে তাদের ROG (Republic of Gamers) এবং TUF গেমিং সিরিজ বাংলাদেশের গেমারদের কাছে আইকনিক। তবে শুধু গেমিং নয়, ProArt সিরিজের মাধ্যমে প্রফেশনাল ক্রিয়েটর এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও তারা চমৎকার মানের মনিটর তৈরি করে, যা শক্তিশালী হার্ডওয়্যার এবং উদ্ভাবনী ফিচারের জন্য পরিচিত।

Asus Monitor - এর মডেল সমূহ 

ASUS ProArt PA34VCNV 34'' 1440P Ultrawide Curved Professional Monitor

Image

মূল্য: প্রায় ৳ ১,০৫,০০০

মূল বৈশিষ্ট্যঃ ৩৪ ইঞ্চি কার্ভড আল্ট্রাওয়াইড (3440x1440) ডিসপ্লে, প্রফেশনাল কালার অ্যাকুরেসি (Calman Verified), ১২০Hz রিফ্রেশ রেট, USB-C হাব (96W পাওয়ার ডেলিভারি), বিল্ট-ইন KVM সুইচ ও RJ45 (LAN) পোর্ট।

 

সাইজ: ৩৪ ইঞ্চি (কার্ভড)

প্যানেল: IPS

রেজোলিউশন: UWQHD (3440x1440)

রিফ্রেশ রেট: ১২০Hz

পোর্ট: HDMI, DisplayPort, USB-C (96W PD), USB Hub, RJ45

প্রযুক্তি: Calman Verified, 100% sRGB, KVM Switch, Ergonomic Stand


ASUS ProArt PA34VCNV হলো প্রফেশনাল ভিডিও এডিটর এবং মাল্টিটাস্কারদের জন্য একটি স্বপ্নের মনিটর। এর কার্ভড আল্ট্রাওয়াইড স্ক্রিন ইমার্সিভ ভিউ দেওয়ার পাশাপাশি বিশাল ওয়ার্কস্পেস প্রদান করে। Calman Verified কালার অ্যাকুরেসি নিশ্চিত করে যে প্রতিটি রঙ নিখুঁতভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে। ৯৬W পাওয়ার ডেলিভারি সহ USB-C হাব এবং একটি RJ45 ল্যান পোর্ট এটিকে একটি সম্পূর্ণ ওয়ার্কস্টেশন ডকে পরিণত করেছে, যা যেকোনো প্রফেশনাল সেটআপকে গুছিয়ে আনতে সাহায্য করে।

Asus TUF Gaming VG259QL5A 24.5" FHD 200Hz Gaming Monitor

Image

মূল্য: প্রায় ৳ ২৫,৫০০

মূল বৈশিষ্ট্যঃ ২০০Hz হাই রিফ্রেশ রেট, ১ms (GTG) রেসপন্স টাইম, ASUS ELMB Sync প্রযুক্তি, AMD FreeSync Premium এবং ফাস্ট IPS ডিসপ্লে।


সাইজ: ২৪.৫ ইঞ্চি

প্যানেল: Fast IPS

রেজোলিউশন: FHD (1920x1080)

রিফ্রেশ রেট: ২০০Hz

রেসপন্স টাইম: ১ms (GTG)

প্রযুক্তি: ELMB Sync, FreeSync Premium, 99% sRGB, Low Blue Light


Asus TUF Gaming VG259QL5A বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক গেমারদের জন্য একটি সেরা পছন্দ। এর ২০০Hz রিফ্রেশ রেট এবং ১ms রেসপন্স টাইম দ্রুতগতির গেমে প্রতিপক্ষ থেকে এক ধাপ এগিয়ে রাখে। ASUS-এর নিজস্ব ELMB Sync প্রযুক্তি একই সাথে মোশন ব্লার কমানো এবং FreeSync চালু রাখার সুবিধা দেয়, যার ফলে গেমপ্লে হয় অবিশ্বাস্যভাবে মসৃণ ও শার্প। এই দামে এটি একটি হাই-পারফরম্যান্স গেমিং মনিটর।

ASUS VY229HF 21.45 Inch 100Hz FHD IPS Eye Care Gaming Monitor

Image

মূল্য: প্রায় ৳ ১৩,৮০০

মূল বৈশিষ্ট্যঃ ১০০Hz স্মুথ রিফ্রেশ রেট, IPS প্যানেল, AMD FreeSync, ASUS Eye Care Plus প্রযুক্তি এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ট্রিটমেন্ট।


সাইজ: ২১.৪৫ ইঞ্চি

প্যানেল: IPS

রেজোলিউশন: FHD (1920x1080)

রিফ্রেশ রেট: ১০০Hz

পোর্ট: ১ x HDMI ১.৪

প্রযুক্তি: Eye Care Plus, FreeSync, 1ms (MPRT), Anti-bacterial treatment


ASUS VY229HF একটি বাজেট-বান্ধব মনিটর, যা সাধারণ 60Hz মনিটরের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এর ১০০Hz রিফ্রেশ রেট দৈনন্দিন কাজ, স্ক্রলিং এবং হালকা গেমিংয়ে অনেক বেশি স্মুথ অভিজ্ঞতা দেয়। ASUS Eye Care Plus প্রযুক্তি এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ট্রিটমেন্ট এটিকে ছাত্রছাত্রী বা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করা ব্যবহারকারীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর এবং আরামদায়ক পছন্দে পরিণত করেছে। কম বাজেটে এটি একটি অসাধারণ ভ্যালু-ফর-মানি মনিটর।

Asus (ASUSTeK Computer Inc.) হলো একটি তাইওয়ানিজ বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি, যা সারা বিশ্বে উদ্ভাবনী এবং উচ্চমানের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও ইলেকট্রনিক্স প্রডাক্টের জন্য পরিচিত। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্র্যান্ড আজ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টেক কোম্পানিগুলোর একটি। Asus মূলত মাদারবোর্ড, ল্যাপটপ, গ্রাফিক্স কার্ড, স্মার্টফোন, রাউটার, সার্ভার এবং বিশেষভাবে মনিটরের জন্য বিখ্যাত।

৩. MSI Monitor

গেমিং দুনিয়ায় উদ্ভাবন, শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রতীক হলো MSI। শুধু গেমারদের জন্যই নয়, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং প্রফেশনাল ইউজারদের কাছেও MSI মনিটর সমানভাবে জনপ্রিয়। তাদের Gaming, Creator এবং PRO সিরিজ প্রতিটি ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা সমাধান দেয়, যা বাংলাদেশেও দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

MSI Monitor - এর মডেল সমূহ 

MSI MAG 273QP QD-OLED X24 26.5" 2K WQHD 240Hz Gaming Monitor

Image

মূল্য: প্রায় ৳ ৯৫,৫০০

মূল বৈশিষ্ট্যঃ নেক্সট-জেন QD-OLED প্যানেল, ২৪০Hz অবিশ্বাস্য রিফ্রেশ রেট, ০.০৩ms (GtG) আলট্রা-ফাস্ট রেসপন্স টাইম, DisplayHDR True Black 400 সার্টিফাইড, MSI OLED Care 2.0।

 

সাইজ: ২৬.৫ ইঞ্চি

প্যানেল: QD-OLED

রেজোলিউশন: WQHD (2560x1440)

রিফ্রেশ রেট: ২৪০Hz

রেসপন্স টাইম: ০.০৩ms (GtG)

প্রযুক্তি: VESA ClearMR 13000, DisplayHDR True Black 400, Adaptive-Sync, Anti-Reflection


MSI MAG 273QP QD-OLED X24 গেমিং মনিটরটি ভিজ্যুয়াল পারফরম্যান্সের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এর ৩য় প্রজন্মের QD-OLED প্যানেল নিখুঁত কালো, অসীম কনট্রাস্ট এবং অত্যন্ত জীবন্ত রঙ প্রদান করে। ২৪০Hz রিফ্রেশ রেট এবং প্রায় তাৎক্ষণিক ০.০৩ms রেসপন্স টাইমের সমন্বয়ে এটি প্রতিযোগিতামূলক গেমিংয়ে অসাধারণ মসৃণ এবং শার্প ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দেয়। যারা ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটি এবং পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে কোনো আপস করতে চান না, তাদের জন্য এটি একটি সেরা পছন্দ।

MSI G255F 25" 180Hz 1ms IPS FHD Gaming Monitor

Image

মূল্য: প্রায় ৳ ২৫,৬০০

মূল বৈশিষ্ট্যঃ ১৮০Hz হাই রিফ্রেশ রেট, ১ms (GtG) ফাস্ট রেসপন্স টাইম, Rapid IPS ডিসপ্লে, Adaptive-Sync প্রযুক্তি, ৯৯% sRGB কালার কভারেজ, Anti-Flicker এবং Less Blue Light।


সাইজ: ২৪.৫ ইঞ্চি

প্যানেল: Rapid IPS

রেজোলিউশন: FHD (1920x1080)

রিফ্রেশ রেট: ১৮০Hz

রেসপন্স টাইম: ১ms (GTG)

প্রযুক্তি: Adaptive-Sync, Night Vision, Wide Color Gamut, Anti-Flicker এবং Less Blue Light


MSI G255F বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক গেমারদের জন্য একটি দারুণ পছন্দ। এর ১৮০Hz রিফ্রেশ রেট এবং ১ms রেসপন্স টাইম দ্রুতগতির গেমে প্রতিপক্ষ থেকে আপনাকে এগিয়ে রাখতে সাহায্য করে। এর Rapid IPS প্যানেল চমৎকার রঙ এবং প্রশস্ত ভিউইং অ্যাঙ্গেল প্রদান করে। Adaptive-Sync প্রযুক্তির ফলে গেমপ্লে হয় মসৃণ এবং টিয়ার-ফ্রি। এই বাজেটে এটি একটি হাই-পারফরম্যান্স গেমিং মনিটর।

MSI PRO MP225 21.5" 100Hz IPS FHD Monitor

Image

মূল্য: প্রায় ৳ ১২,৮০০

মূল বৈশিষ্ট্যঃ ১০০Hz স্মুথ রিফ্রেশ রেট, IPS প্যানেল, MSI Eye Care ফিচার, Adaptive-Sync সাপোর্ট, টুল-লেস ডিজাইন, VESA মাউন্ট সাপোর্ট।


সাইজ: ২১.৫ ইঞ্চি

প্যানেল: IPS

রেজোলিউশন: FHD (1920x1080)

রিফ্রেশ রেট: ১০০Hz

পোর্ট: ১টি HDMI এবং ১টি D-Sub (VGA) পোর্ট

প্রযুক্তি: MSI EyesErgo, Anti-Flicker, Less Blue Light, Adaptive-Sync


MSI PRO MP225 একটি বাজেট-বান্ধব প্রোডাক্টিভিটি মনিটর, যা সাধারণ ৬০Hz মনিটরের চেয়ে অনেক উন্নত। এর ১০০Hz রিফ্রেশ রেট দৈনন্দিন কাজ, ওয়েব ব্রাউজিং এবং হালকা বিনোদনে একটি স্মুথ অভিজ্ঞতা দেয়। MSI-এর Eye Care প্রযুক্তি দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা ব্যবহারকারীদের চোখের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে, যা এটিকে ছাত্রছাত্রী বা অফিস ব্যবহারকারীদের জন্য একটি আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যকর পছন্দে পরিণত করেছে। কম বাজেটে এটি একটি অসাধারণ ভ্যালু-ফর-মানি মনিটর।

MSI (Micro-Star International) হলো একটি বিশ্বখ্যাত তাইওয়ানিজ ব্র্যান্ড, যা বিশেষভাবে গেমিং হার্ডওয়্যার, ইনোভেটিভ প্রযুক্তি এবং হাই-পারফরম্যান্স প্রডাক্টের জন্য পরিচিত। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত MSI শুরু থেকেই কম্পিউটার কম্পোনেন্ট, গ্রাফিক্স কার্ড, ল্যাপটপ এবং মনিটরের ক্ষেত্রে একটি শীর্ষস্থানীয় নাম। বর্তমানে গেমিং কমিউনিটি থেকে শুরু করে প্রফেশনাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের ব্যবহারকারীর কাছে MSI একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড।

সেরা ৩টি সাশ্রয়ী মনিটরের তুলনা

মডেল

HP M22f 22" FHD IPS Monitor

ASUS VY229HF 21.45 Inch 100Hz FHD IPS Eye Care Gaming Monitor

MSI PRO MP225 21.5" 100Hz IPS FHD Monitor

ব্র্যান্ড

HP

ASUS

MSI

দাম (টাকা)

৳ ১৬,০০০

৳ ১৩,৮০০

৳ ১২,৮০০

মূল বৈশিষ্ট্য

স্লিম ডিজাইন, 99% sRGB, AMD FreeSync, HP Eye Ease Low Blue Light

১০০Hz স্মুথ রিফ্রেশ রেট, AMD FreeSync, ASUS Eye Care Plus, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ট্রিটমেন্ট

১০০Hz স্মুথ রিফ্রেশ রেট, MSI Eye Care, Adaptive-Sync, টুল-লেস ডিজাইন

সাইজ

২১.৫ ইঞ্চি

২১.৪৫ ইঞ্চি

২১.৫ ইঞ্চি

প্যানেল

IPS

IPS

IPS

রেজোলিউশন

FHD (1920x1080)

FHD (1920x1080)

FHD (1920x1080)

রিফ্রেশ রেট

৭৫Hz

১০০Hz

১০০Hz

প্রযুক্তি

AMD FreeSync, Low Blue Light

Eye Care Plus, FreeSync, 1ms (MPRT), Anti-bacterial treatment

MSI EyesErgo, Anti-Flicker, Less Blue Light, Adaptive-Sync

উৎপত্তি

USA

Taiwan

Taiwan

বাংলাদেশের জন্য সেরা Monitor সুপারিশ

যারা হাই-এন্ড ভিজ্যুয়াল এবং প্রফেশনাল কাজের জন্য মনিটর খুঁজছেন, তাদের জন্য HP Series 5 Pro 534pm 34" UWQHD Professional Monitor একটি দারুণ সমাধান। এর ৩৪ ইঞ্চি 3K আল্ট্রাওয়াইড ডিসপ্লে, ১০০Hz রিফ্রেশ রেট এবং KVM সুইচ সহ USB-C হাব মাল্টিটাস্কিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে অসাধারণ অভিজ্ঞতা দেয়।

প্রতিযোগিতামূলক গেমিংয়ের জন্য সেরা বিকল্প হলো Asus TUF Gaming VG259QL5A 24.5" FHD 200Hz Gaming Monitor। এর ২০০Hz রিফ্রেশ রেট, ১ms রেসপন্স টাইম এবং ELMB Sync প্রযুক্তি দ্রুতগামী গেমে মসৃণ ও ল্যাগ-ফ্রি পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে।

বাজেট ব্যবহারকারীদের জন্য MSI PRO MP225 21.5" 100Hz IPS FHD Monitor সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। সাশ্রয়ী দামে ১০০Hz রিফ্রেশ রেট, উজ্জ্বল IPS ডিসপ্লে এবং Eye Care ফিচার এটি ছাত্রছাত্রী ও অফিস ব্যবহারকারীদের জন্য আদর্শ করে তুলেছে।

সবকিছু বিবেচনায়, বাংলাদেশে বাজেট ও পারফরম্যান্সের ভারসাম্যে MSI PRO MP225-কেই সেরা সুপারিশ করা যায়।

বাংলাদেশে Monitor এর জনপ্রিয় ব্র্যান্ডসমূহের তুলনা

বাংলাদেশের মনিটরের বাজারে বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড তাদের নিজস্ব বিশেষত্ব এবং মূল্য পরিসর নিয়ে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছে। নিচে তিনটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

ব্র্যান্ড

পরিচিতি

গুণগত মান

বাজারমূল্য

HP

আমেরিকান ব্র্যান্ড, নির্ভরযোগ্যতা ও পেশাদার ডিজাইনের জন্য বিশ্বস্ত।

স্থিতিশীল পারফরম্যান্স, ভালো কালার অ্যাকুরেসি, মজবুত বিল্ড, চোখের সুরক্ষার প্রযুক্তি।

বাজেট থেকে উচ্চ মূল্য

Asus

তাইওয়ানিজ ব্র্যান্ড, গেমিং (ROG/TUF) ও হাই-পারফরম্যান্সের জন্য সুপরিচিত।

অত্যাধুনিক প্যানেল, উচ্চ রিফ্রেশ রেট, দ্রুত রেসপন্স টাইম, প্রিমিয়াম বিল্ড, উদ্ভাবনী ফিচার।

বাজেট থেকে উচ্চ মূল্য

MSI

তাইওয়ানিজ ব্র্যান্ড, গেমিং হার্ডওয়্যারে (ল্যাপটপ, মনিটর) উদ্ভাবনের প্রতীক।

উচ্চ রিফ্রেশ রেট, দ্রুত রেসপন্স টাইম, উন্নত প্যানেল (IPS, QD-OLED), মজবুত বিল্ড, Eye Care ফিচার।

বাজেট থেকে উচ্চ মূল্য

কাস্টমার রিভিউ ও ফিডব্যাক

"আমি অফিসের কাজের জন্য HP M22f মনিটরটা নিয়েছি। এর স্লিম ডিজাইন আর IPS প্যানেল এই বাজেটে দারুণ। সারাদিন কাজ করলেও HP Eye Ease ফিচারের কারণে চোখে তেমন চাপ পড়ে না। হালকা গেমিংয়ের জন্য ৭৫Hz রিফ্রেশ রেট যথেষ্ট ভালো। তবে, প্রফেশনাল গেমিং বা গ্রাফিক্সের কাজের জন্য হয়তো আরও ভালো কিছু দরকার হবে।" – শামীমা বেগম, রাজশাহী

Source: TechLand BD

"আমার ছেলের অনলাইন ক্লাস আর হালকা গেমিংয়ের জন্য ASUS VY229HF মনিটরটা পারফেক্ট। ১০০Hz রিফ্রেশ রেট থাকার কারণে স্ক্রিনটা খুব স্মুথ লাগে, বিশেষ করে যখন ওয়েব ব্রাউজ করে বা ভিডিও দেখে। ASUS Eye Care Plus প্রযুক্তি চোখকে আরাম দেয়, যা দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের জন্য খুব জরুরি। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ট্রিটমেন্টও একটা ভালো সুবিধা।" – আলতাফ হোসেন, বগুড়া

Source: Skyland BD

"MSI PRO MP225 মনিটরটা তার দামের তুলনায় অনেক বেশি ভালো। ১০০Hz রিফ্রেশ রেট আর IPS প্যানেল হওয়ায় ছবি খুব পরিষ্কার আসে। আমি মূলত পড়াশোনা আর মুভি দেখার জন্য ব্যবহার করি, যা আমার প্রত্যাশা পূরণ করেছে। Adaptive-Sync সাপোর্ট ছোটখাটো গেমিংয়ের জন্য বেশ কার্যকর। MSI-এর Eye Care ফিচারগুলোও চোখে আরাম দেয়।" – আরিফা সুলতানা, কুমিল্লা

Source: Ryans Computers

উপসংহার

একটি মনিটর কেবল কম্পিউটারের একটি আনুষঙ্গিক নয়, বরং এটি আপনার ডিজিটাল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনার কাজ, বিনোদন এবং এমনকি স্বাস্থ্যের উপর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। সময়ের সাথে সাথে মনিটরের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এতটাই হয়েছে যে, এটি এখন কেবল ছবি দেখানোর যন্ত্র নয়, বরং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, চোখের সুরক্ষা এবং বাস্তবসম্মত ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা প্রদানের এক শক্তিশালী মাধ্যম।

আপনার জন্য সেরা মনিটরটি খুঁজে বের করার সময়, আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজন, ব্যবহারের ধরণ এবং বাজেটকে প্রাধান্য দিন। দীর্ঘস্থায়ী আরাম, উন্নত কর্মক্ষমতা এবং চোখের সুরক্ষার জন্য শুধুমাত্র দাম নয়, বরং মনিটরের সামগ্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো বিবেচনা করা অত্যাবশ্যক। সঠিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত আপনার ডিজিটাল জীবনকে আরও সমৃদ্ধ ও আরামদায়ক করে তুলবে।