২০২৬ সালে এসে প্রযুক্তির অগ্রগতি আমাদের কাজের ধরনই বদলে দিয়েছে। ল্যাপটপ এখন আর শুধু টাইপিং বা ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের ডিভাইস নয় - এটি সৃজনশীল কাজ, গেমিং, পেশাদার অফিস টাস্ক এমনকি অনলাইন আয়ের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ল্যাপটপ বাজারেও এসেছে বড় পরিবর্তন। অনলাইন ক্লাস, ফ্রিল্যান্সিং, রিমোট জব, কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে শুরু করে গেমিং - প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন ভালো পারফরম্যান্সের একটি নির্ভরযোগ্য ল্যাপটপ প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজারে যে ব্র্যান্ডগুলো ধারাবাহিকভাবে ব্যবহারকারীদের আস্থা ধরে রাখতে পেরেছে, তাদের মধ্যে HP অন্যতম। HP Laptop বাংলাদেশে জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণ হলো বিভিন্ন বাজেট রেঞ্জের মডেল পাওয়া যায়, ভালো সার্ভিস সাপোর্ট রয়েছে, এবং পারফরম্যান্স ও স্থায়িত্বের মধ্যে ভালো ভারসাম্য বজায় রাখে।
বাংলাদেশে নতুন ল্যাপটপ কিনতে গেলে সবচেয়ে বড় সমস্যাটা সাধারণত একটাই - কোনটা নিলে সত্যিকারের ভ্যালু পাওয়া যাবে? একই বাজেটে বাজারে HP, ASUS, Lenovo, Dell - সব ব্র্যান্ডের অসংখ্য মডেল। তার ওপর আবার অফিসিয়াল ও গ্রে মার্কেটের দামের পার্থক্য, ভিন্ন কনফিগারেশন, আপগ্রেড অপশন, আর দোকানভেদে আলাদা সুবিধা - সব মিলিয়ে একজন ক্রেতা সহজেই কনফিউশনে পড়ে যান। বিশেষ করে এখন বাংলাদেশের ল্যাপটপ বাজারে ডলারের দাম, আমদানি খরচ এবং স্টক সংকটের কারণে বাংলাদেশে ল্যাপটপের দাম দ্রুত ওঠানামা করছে। ফলে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে কয়েক মাসের মধ্যেই আফসোস হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না।
এই নিবন্ধে আমরা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে HP-র বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সেরা মডেলটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।
বাংলাদেশের বর্তমান ল্যাপটপ বাজার ও HP-র আধিপত্য
দেশের ল্যাপটপ বাজার এখন এক অদ্ভুত সময় পার করছে। একদিকে ডলারের বাজার আর বৈশ্বিক সংকটে গত দুই বছরে ল্যাপটপের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০% থেকে ৪০%। HP কেন বাংলাদেশে এত জনপ্রিয়? এর উত্তর খুব সহজ: সার্ভিস এবং ভ্যারাইটি।
গ্রামের মফস্বল শহর থেকে শুরু করে ঢাকার মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার পর্যন্ত-HP-র পার্টস পাওয়া যতটা সহজ, অন্য অনেক ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে তা নয়। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে বাজারে প্রচুর রিফারবিশড (পুরাতন মেরামত করা) এবং আনঅফিসিয়াল ল্যাপটপ ছড়িয়ে পড়েছে। তাই "HP সেরা ল্যাপটপ বাংলাদেশ" লিখে সার্চ করলে অনেক অপশন আসলেও, বুঝে শুনে পা বাড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
HP ব্র্যান্ড কেন এখনও জনপ্রিয়
অনেকেই প্রশ্ন করেন, "ভাই, আসুস বা ডেল ছেড়ে কেন এইচপি কিনব?" বাস্তব অভিজ্ঞতার নিরিখে এর কয়েকটি কারণ নিচে দেওয়া হলো:
- বিল্ড কোয়ালিটি: HP তাদের এন্ট্রি-লেভেল 'Laptop' সিরিজ থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম 'Spectre' পর্যন্ত প্রতিটি বিভাগেই টেকসই করার চেষ্টা করে। বিশেষ করে ল্যাপটপের হিঞ্জ (Hinge) বা কব্জা এবং কী-বোর্ড ফিডব্যাক বেশ চমৎকার।
- আফটার সেলস সার্ভিস: বাংলাদেশে HP-র অফিসিয়াল সার্ভিস সেন্টার জালের মতো ছড়িয়ে আছে। স্মার্ট টেকনোলজি বা গ্লোবাল ব্র্যান্ডের মতো ডিস্ট্রিবিউটররা অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি প্রদান করে, যা দীর্ঘমেয়াদে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখে।
- রিসেল ভ্যালু: বাংলাদেশে সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে HP ল্যাপটপের কদর সবচেয়ে বেশি। যদি ভবিষ্যতে আপনি ল্যাপটপটি বিক্রি করে আপগ্রেড করতে চান, তবে HP-তে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
Best HP Laptop - বাংলাদেশে HP Laptop এর জনপ্রিয়, উন্নত এবং সেরা মডেলসমূহ
২০২৬ সালের বর্তমান বাজারদর ও চাহিদা বিবেচনায় সেরা ১০টি HP ল্যাপটপের বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. HP EliteBook 840 G11 Core Ultra 7 155U 14″ WUXGA FHD Laptop

এটি HP–এর সর্বাধুনিক প্রিমিয়াম বিজনেস সিরিজের একটি শক্তিশালী মডেল, যা কর্পোরেট পেশাজীবী, নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উচ্চ পর্যায়ের প্রোডাক্টিভিটি ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি। উন্নত প্রসেসর, প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটি এবং নিরাপত্তা ফিচারের সমন্বয়ে এটি দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
Processor |
Intel Core Ultra 7 155U |
|
RAM |
16GB DDR5 |
|
Storage |
512 GB PCIe NVMe SSD |
|
Display |
14″ WUXGA IPS |
|
Graphics |
Integrated Intel Graphics |
|
Connectivity |
Wi-Fi 6E, USB-C, Thunderbolt 4 |
|
Security |
Fingerprint, IR Camera |
|
Battery |
56 Wh, fast charge |
বিস্তারিত বিবরণ:
Intel Core Ultra 7 প্রসেসর অত্যন্ত দ্রুতগতির ডেটা প্রসেসিং নিশ্চিত করে, যা ভারী অফিস সফটওয়্যার ও মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য উপযুক্ত। 14 ইঞ্চি WUXGA ডিসপ্লে উচ্চ রেজোলিউশনের কারণে ডকুমেন্ট, স্প্রেডশিট ও প্রেজেন্টেশনে অতিরিক্ত স্ক্রিন স্পেস প্রদান করে। 16GB DDR5 RAM এবং NVMe SSD একসাথে কাজ করে অত্যন্ত স্মুথ ও ল্যাগ-ফ্রি পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। উন্নত সিকিউরিটি ফিচার এবং টেকসই মেটাল চ্যাসিস এটিকে কর্পোরেট ব্যবহারের জন্য আদর্শ পছন্দে পরিণত করেছে।
মূল্য: প্রায় ১,৬৯,৯৯৯ টাকা।
২. HP Victus 15-fb2132AX Ryzen 7 8845HS + RTX 3050 6 GB 15.6″ FHD Gaming Laptop

এই মডেলটি HP–এর জনপ্রিয় গেমিং সিরিজের অংশ, যা গেমার এবং ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। শক্তিশালী প্রসেসর ও ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স কার্ডের কারণে এটি উচ্চ পারফরম্যান্স সেগমেন্টে অবস্থান করছে।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
Processor |
AMD Ryzen 7 8845HS |
|
Graphics |
NVIDIA RTX 3050 6 GB |
|
RAM |
16GB DDR5 |
|
Storage |
512GB SSD |
|
Display |
15.6″ FHD |
|
Cooling |
Advanced Cooling System |
বিস্তারিত বিবরণ:
Ryzen 7 8845HS প্রসেসর অত্যন্ত শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রদান করে, যা আধুনিক AAA গেম ও ভারী সফটওয়্যার সহজেই চালাতে সক্ষম। RTX 3050 6GB গ্রাফিক্স কার্ড গেমিং ও গ্রাফিক ডিজাইনের ক্ষেত্রে উন্নত ভিজ্যুয়াল ও দ্রুত রেন্ডারিং নিশ্চিত করে। 144Hz রিফ্রেশ রেট ডিসপ্লে দ্রুতগতির অ্যাকশন দৃশ্যে মসৃণ অভিজ্ঞতা প্রদান করে। উন্নত কুলিং সিস্টেম দীর্ঘ সময় গেম খেলার সময়ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
মূল্য: প্রায় ১,৫২,৯৯৯ টাকা।
৩. HP ProBook 440 G11 Core Ultra 5 14″ FHD Laptop

প্রফেশনাল অফিস ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি এই মডেলটি পারফরম্যান্স ও পোর্টেবিলিটির মধ্যে চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখে। নিয়মিত অফিস কাজ, অনলাইন মিটিং এবং প্রেজেন্টেশনের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
Processor |
Intel Core Ultra 5 |
|
RAM |
16GB |
|
Storage |
512GB SSD |
|
Display |
14″ WUXGA IPS |
|
Security |
Fingerprint, Privacy Camera |
|
Battery |
56 Wh |
|
Weight |
~1.39 kg |
বিস্তারিত বিবরণ:
Core Ultra 5 প্রসেসর দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স প্রদান করে, যা অফিস সফটওয়্যার ব্যবহারে কোনো ধীরগতি অনুভব হতে দেয় না। 14 ইঞ্চির WUXGA ডিসপ্লে দীর্ঘসময় কাজের সময় চোখের আরাম বজায় রাখে এবং স্পষ্ট ভিজ্যুয়াল দেয়। 16GB RAM মাল্টিটাস্কিংকে আরও কার্যকর করে তোলে, ফলে একাধিক অ্যাপ একসাথে ব্যবহার করা যায়। শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যাকআপ ব্যস্ত কর্মদিবসে নিরবচ্ছিন্ন কাজের সুবিধা দেয়।
মূল্য: ৮৮,৯০০ টাকা।
৪. HP ProBook 440 G10 Core i7 13th Gen 14″ FHD Laptop

উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ১৩তম জেনারেশনের i7 প্রসেসর সমৃদ্ধ এই ল্যাপটপটি প্রফেশনাল কাজের জন্য উপযোগী এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
Processor |
Intel Core i7 13th Gen |
|
RAM |
8 GB |
|
Storage |
512 GB SSD |
|
Display |
14″ FHD |
|
Build |
Slim, Aluminum |
|
Connectivity |
USB-C, HDMI, Wi-Fi 6 |
বিস্তারিত বিবরণ:
১৩তম জেনারেশনের Core i7 প্রসেসর দ্রুত ডেটা প্রসেসিং ও ভারী কাজ সম্পাদনে সক্ষম। ফুল HD ডিসপ্লে পরিষ্কার ও জীবন্ত রঙ প্রদান করে, যা অফিস ও মাল্টিমিডিয়া উভয়ের জন্য উপযুক্ত। 512GB SSD দ্রুত বুট টাইম ও সফটওয়্যার লোডিং নিশ্চিত করে। স্লিম ও প্রিমিয়াম ডিজাইন এটিকে অফিস পরিবেশে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
মূল্য: ৮৬,৯৯৯ টাকা।
৫. HP 15-fd1113TU Intel Core 5 120U 15.6″ FHD Laptop

মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে অবস্থান করা এই মডেলটি আধুনিক ডিজাইন ও নতুন জেনারেশনের Intel প্রসেসরের সমন্বয়ে তৈরি। নিয়মিত অফিস কাজ, অনলাইন ক্লাস, ফ্রিল্যান্সিং এবং মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের জন্য এটি একটি ব্যালান্সড পারফরম্যান্স প্রদানকারী ল্যাপটপ।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
Processor |
Intel Core 5 120U (up to 5.0 GHz) |
|
RAM |
8 GB DDR4 |
|
Storage |
512 GB PCIe NVMe SSD |
|
Display |
15.6″ FHD |
|
Graphics |
Integrated Intel Graphics |
|
Camera |
HP True Vision 1080p |
|
Connectivity |
Wi-Fi 6E, USB-C |
|
Battery |
41 Wh |
বিস্তারিত বিবরণ:
Intel Core 5 120U প্রসেসর দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে মাঝারি পর্যায়ের মাল্টিটাস্কিং খুব সহজেই পরিচালনা করতে সক্ষম। 15.6 ইঞ্চির ফুল HD ডিসপ্লে বড় ও পরিষ্কার ভিজ্যুয়াল প্রদান করে, যা দীর্ঘসময় কাজ বা ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে আরামদায়ক অভিজ্ঞতা দেয়। 512GB SSD দ্রুত ডেটা ট্রান্সফার ও সফটওয়্যার লোডিং নিশ্চিত করে, ফলে কাজের গতি বজায় থাকে। আধুনিক স্লিম ডিজাইন এবং শক্তপোক্ত নির্মাণ এটিকে ছাত্রছাত্রী ও অফিস ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য পছন্দে পরিণত করেছে।
মূল্য: প্রায় ৭৫,৫০০ টাকা।
৬. HP 15 Fd0154wm Intel Core Ultra 5 125H 15.6″ FHD Touch Laptop

টাচস্ক্রিন সুবিধাসম্পন্ন এই আধুনিক ল্যাপটপটি নতুন প্রজন্মের Core Ultra প্রসেসর এবং উন্নত গ্রাফিক্স সমর্থন নিয়ে এসেছে। যারা প্রোডাক্টিভিটির পাশাপাশি ইন্টারঅ্যাকটিভ ব্যবহার চান, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপযোগী।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
Processor |
Intel Core Ultra 5 125H |
|
RAM |
8 GB LPDDR5x |
|
Storage |
512 GB SSD |
|
Display |
15.6″ FHD Touch |
|
Graphics |
Intel Arc Graphics |
|
Connectivity |
Wi-Fi, USB-C |
|
OS |
Windows 11 |
বিস্তারিত বিবরণ:
Core Ultra 5 125H প্রসেসর উন্নত AI-সহায়ক পারফরম্যান্স প্রদান করে, যা আধুনিক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারে গতি বাড়ায়। টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে ব্যবহারকারীদের আরও স্বাচ্ছন্দ্যে নেভিগেশন ও কন্টেন্ট কন্ট্রোলের সুযোগ দেয়। Intel Arc গ্রাফিক্স হালকা গ্রাফিক ডিজাইন ও ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে উন্নত ভিজ্যুয়াল পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। দ্রুত LPDDR5x RAM ও SSD একত্রে কাজ করে স্থিতিশীল ও ল্যাগ-ফ্রি অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
মূল্য: প্রায় ৬৯,৯৯৯ টাকা।
৭. HP 15-fd1110TU Core 3 100U 15.6″ FHD Laptop

বাজেট ফ্রেন্ডলি এই মডেলটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত ইন্টারনেট ব্রাউজিং, অফিস সফটওয়্যার ও অনলাইন ক্লাসের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ল্যাপটপ চান। এটি পারফরম্যান্স ও মূল্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
Processor |
Intel Core 3 100U (up to 4.7 GHz) |
|
RAM |
8 GB DDR4 |
|
Storage |
512 GB SSD |
|
Display |
15.6″ FHD |
|
Connectivity |
Wi-Fi 6E, USB-C |
|
Battery |
41 Wh |
বিস্তারিত বিবরণ:
Core 3 100U প্রসেসর দৈনন্দিন কম্পিউটিং কাজের জন্য যথেষ্ট কার্যকর পারফরম্যান্স প্রদান করে। বড় ফুল HD ডিসপ্লে অনলাইন ক্লাস ও ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে পরিষ্কার ভিজ্যুয়াল নিশ্চিত করে। SSD স্টোরেজ দ্রুত বুট টাইম ও অ্যাপ লোডিং নিশ্চিত করে কাজের গতি ধরে রাখে। হালকা ও ব্যবহারবান্ধব ডিজাইন এটিকে শিক্ষার্থী ও গৃহ ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।
মূল্য: প্রায় ৬৩,৮০০ টাকা।
৮. HP 15-fc0166AU Ryzen 5 7520U 15.6″ FHD Laptop

AMD Ryzen প্রসেসর সমৃদ্ধ এই মডেলটি পারফরম্যান্স ও পাওয়ার এফিশিয়েন্সির সমন্বয়ে তৈরি, যা নিয়মিত অফিস কাজ ও পড়াশোনার জন্য নির্ভরযোগ্য সমাধান প্রদান করে।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
Processor |
AMD Ryzen 5 7520U |
|
RAM |
8 GB LPDDR5 |
|
Storage |
512 GB PCIe NVMe SSD |
|
Display |
15.6″ FHD |
|
Security |
Fingerprint, Privacy shutter |
বিস্তারিত বিবরণ:
Ryzen 5 7520U প্রসেসর দ্রুত এবং স্থিতিশীল পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে, যা মাল্টিটাস্কিংয়ের সময়ও সিস্টেমকে স্মুথ রাখে। LPDDR5 RAM শক্তি সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ডেটা হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রদান করে। 15.6 ইঞ্চি ফুল HD ডিসপ্লে পরিষ্কার ও প্রাণবন্ত ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন করে। বিল্ট-ইন ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ডিভাইসের নিরাপত্তা ও দ্রুত লগইন সুবিধা নিশ্চিত করে।
মূল্য: প্রায় ৬২,৫০০ টাকা।
৯. HP 15-fc0333AU Ryzen 5 7520U 15.6″ FHD Laptop

হালকা ও স্টাইলিশ ডিজাইনের এই ল্যাপটপটি নিয়মিত কাজ ও বিনোদনের জন্য সমানভাবে উপযোগী। ব্যালান্সড হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন এটিকে মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে জনপ্রিয় করেছে।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
Processor |
AMD Ryzen 5 7520U |
|
RAM |
8 GB LPDDR5 |
|
Storage |
512 GB PCIe NVMe SSD |
|
Display |
15.6″ FHD |
|
Weight |
~1.59 kg |
বিস্তারিত বিবরণ:
Ryzen 5 প্রসেসর দৈনন্দিন কাজ দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম। SSD স্টোরেজ সিস্টেমকে দ্রুত রেসপন্সিভ করে তোলে, ফলে সময় বাঁচে। বড় ফুল HD ডিসপ্লে ভিডিও দেখা ও অফিস কাজ উভয়ের জন্য আরামদায়ক। তুলনামূলক হালকা ওজনের কারণে এটি সহজে বহনযোগ্য এবং ভ্রমণের জন্য সুবিধাজনক।
মূল্য: প্রায় ৫৮,৭৯৯ টাকা।
১০. HP 15-fc0266AU Ryzen 3 7320U 15.6″ FHD Laptop

এন্ট্রি-লেভেল ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত এই বাজেট মডেলটি সাধারণ কম্পিউটিং প্রয়োজন পূরণে সক্ষম। যারা প্রথমবার ল্যাপটপ কিনছেন বা বেসিক কাজের জন্য ডিভাইস চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
Processor |
AMD Ryzen 3 7320U |
|
RAM |
8 GB LPDDR5 |
|
Storage |
512 GB SSD |
|
Display |
15.6″ FHD |
|
Battery |
41 Wh |
বিস্তারিত বিবরণ:
Ryzen 3 7320U প্রসেসর সাধারণ অফিস সফটওয়্যার ও ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত পারফরম্যান্স প্রদান করে। 512GB SSD দ্রুত বুটিং ও ফাইল অ্যাক্সেস নিশ্চিত করে, যা ব্যবহারকে আরও সুবিধাজনক করে তোলে। বড় ফুল HD ডিসপ্লে দৈনন্দিন কাজ ও বিনোদনে পরিষ্কার অভিজ্ঞতা দেয়। সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে এটি বাজেট সচেতন ক্রেতাদের জন্য একটি কার্যকর সমাধান।
মূল্য: প্রায় ৫০,৫০০ টাকা।
সেরা ৪টি ল্যাপটপের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
|
ফিচারের ধরণ |
HP EliteBook 840 G11 |
HP Victus 15 |
HP ProBook 440 G11 |
HP 15-fd1113TU |
|
ব্যবহারকারী |
কর্পোরেট ও সিইও লেভেল |
গেমার ও ডিজাইনার |
প্রফেশনাল ও ফ্রিল্যান্সার |
শিক্ষার্থী ও সাধারণ ব্যবহারকারী |
|
প্রসেসর |
Core Ultra 7 155U |
Ryzen 7 8845HS |
Core Ultra 5 |
Core 5 120U |
|
গ্রাফিক্স |
Integrated Intel |
RTX 3050 6GB |
Integrated Intel |
Integrated Intel |
|
বডি ও বিল্ড |
প্রিমিয়াম মেটাল চ্যাসিস |
কুলিং সিস্টেমসহ গেমিং বডি |
টেকসই বিজনেস স্লিম |
স্লিম প্লাস্টিক/মেটাল কম্বো |
|
মূল্য (প্রায়) |
১,৬৯,৯৯৯ টাকা |
১,৫২,৯৯৯ টাকা |
৮৮,৯০০ টাকা |
৭৫,৫০০ টাকা |
বিশেষজ্ঞ মতামত অনুযায়ী সেরা HP Laptop সুপারিশ
সবগুলো মডেলের ফিচার এবং উপযোগিতা বিশ্লেষণ করার পর কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত হবে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
প্রিমিয়াম ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য: আপনি যদি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা কর্পোরেট পেশাজীবী হন এবং আপনার জন্য সিকিউরিটি ও আভিজাত্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে HP EliteBook 840 G11 আপনার জন্য সেরা নির্বাচন। এর Core Ultra 7 প্রসেসর এবং ফেস আইডি-সহ উন্নত সিকিউরিটি ফিচার আপনার গোপনীয় ডেটা সুরক্ষার পাশাপাশি কয়েক বছর নিরবচ্ছিন্ন সার্ভিস নিশ্চিত করবে। যারা বাজেটের চেয়ে পারফরম্যান্স এবং ব্র্যান্ড ভ্যালুকে বেশি প্রাধান্য দেন, এটি তাদের জন্য।
গেমিং এবং গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য: আপনার কাজ যদি হয় হাই-এন্ড ভিডিও এডিটিং, থ্রিডি রেন্ডারিং কিংবা লেটেস্ট গেম খেলা, তবে চোখ বন্ধ করে HP Victus 15-fb2132AX বেছে নিন। এই বাজেটে Ryzen 7 8845HS এবং ডেডিকেটেড RTX 3050 (6GB) গ্রাফিক্সের কম্বিনেশন বাংলাদেশে বর্তমানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এর উন্নত কুলিং সিস্টেম দীর্ঘ সময় কাজ করার পরও ল্যাপটপকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে, যা ক্রিয়েটিভ প্রফেশনালদের জন্য একটি বড় সুবিধা।
ভারসাম্যপূর্ণ পেশাদার কাজের জন্য: আপনি যদি একজন ফ্রিল্যান্সার বা অফিস কর্মী হন এবং আপনার বাজেট ১ লাখ টাকার নিচে থাকে, তবে HP ProBook 440 G11 আপনার জন্য সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মডেল। এটি ওজনে হালকা হওয়ায় সহজে বহনযোগ্য, আবার Core Ultra 5 প্রসেসর মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং ডার্ক গ্রে প্রফেশনাল লুক একে মাঝারি বাজেটের সেরা বিজনেস ল্যাপটপে পরিণত করেছে।
শিক্ষার্থী এবং বাজেট সচেতনদের জন্য: যারা পড়াশোনা, অনলাইন ক্লাস এবং সাধারণ ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য একটি ল্যাপটপ খুঁজছেন কিন্তু বাজেট ৭০-৭৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাদের জন্য HP 15-fd1113TU হবে সেরা ডিল। এতে থাকা Intel Core 5 120U প্রসেসর দৈনন্দিন সব কাজ খুব স্মুথলি করতে সক্ষম। বড় ১৫.৬ ইঞ্চি স্ক্রিন হওয়ায় মুভি দেখা বা প্রেজেন্টেশন তৈরির কাজগুলো এতে অনেক আরামদায়ক হবে।
HP Laptop কেনার আগে যা জানা জরুরি
ল্যাপটপ কেনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। সঠিক মডেল নির্বাচন না করলে আপনার কাজের দক্ষতা, সময় এবং অর্থ-সবই অপচয় হতে পারে। শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, গেমার বা ক্রিয়েটিভ প্রফেশনাল-আপনি যেই হোন না কেন, আপনার প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই HP Laptop বেছে নিতে কিছু মৌলিক বিষয় জানা অত্যন্ত জরুরি। নিচে ল্যাপটপ কেনার আগে যেসব বিষয় বিবেচনা করা উচিত, তার বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. আপনার প্রয়োজন নির্ধারণ
ল্যাপটপ কেনার প্রথম ধাপ হলো আপনার চাহিদা স্পষ্টভাবে বোঝা। আপনি কি এটি শুধু দৈনন্দিন কাজের জন্য (ইমেইল, ব্রাউজিং, ডকুমেন্ট এডিটিং) ব্যবহার করবেন? নাকি গেমিং, ভিডিও এডিটিং বা প্রোগ্রামিংয়ের মতো ভারী কাজের জন্য প্রয়োজন? শিক্ষার্থীদের জন্য হালকা ও ব্যাটারি-দক্ষ ল্যাপটপই যথেষ্ট হতে পারে, যেখানে গেমার বা ক্রিয়েটিভদের শক্তিশালী প্রসেসর ও গ্রাফিক্স কার্ডের প্রয়োজন। তাই কেনার আগে আপনার মূল উদ্দেশ্য ঠিক করুন।
২. প্রসেসর (CPU) এবং পারফরম্যান্স
প্রসেসর ল্যাপটপের হৃদয়। বাজারে Intel (Core i3, i5, i7, i9), AMD Ryzen (3, 5, 7, 9) এবং Apple M-সিরিজের চিপ পাওয়া যায়। সাধারণ কাজের জন্য Intel Core i3 বা Ryzen 3 যথেষ্ট, কিন্তু মাল্টিটাস্কিং বা মাঝারি কাজের জন্য i5/Ryzen 5, আর ভারী কাজের জন্য i7/Ryzen 7 বা তার ওপরের প্রসেসর বেছে নিন। Apple-এর M2/M3 চিপগুলো শক্তিশালী এবং শক্তি-দক্ষ, যা macOS ব্যবহারকারীদের জন্য আদর্শ।
৩. মেমোরি (RAM)
RAM ল্যাপটপের গতি ও মাল্টিটাস্কিং ক্ষমতা নির্ধারণ করে। সাধারণ ব্যবহারের জন্য 8GB RAM যথেষ্ট, তবে প্রোগ্রামিং, ভিডিও এডিটিং বা গেমিংয়ের জন্য 16GB বা 32GB বেছে নেওয়া উচিত। RAM যত বেশি, এটি তত দ্রুত ও স্মুথলি কাজ করবে।
৪. স্টোরেজ (HDD vs SSD)
স্টোরেজ ল্যাপটপের ডেটা সংরক্ষণের ক্ষমতা নির্ধারণ করে। HDD (Hard Disk Drive) সাশ্রয়ী এবং বেশি স্টোরেজ দেয়, তবে ধীর গতির। SSD (Solid State Drive) দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং শক্তি-দক্ষ, কিন্তু দামি। বর্তমানে বেশিরভাগ ল্যাপটপে 256GB বা 512GB SSD থাকে, যা দ্রুত বুট-আপ ও ফাইল লোডিংয়ের জন্য আদর্শ। ভারী ফাইলের জন্য 1TB SSD বা SSD+HDD কম্বিনেশন ভালো।
৫. গ্রাফিক্স কার্ড (GPU)
সাধারণ কাজের জন্য ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স (যেমন Intel Iris Xe বা AMD Radeon) যথেষ্ট। কিন্তু গেমিং, 3D মডেলিং বা ভিডিও রেন্ডারিংয়ের জন্য ডেডিকেটেড GPU (NVIDIA GeForce GTX/RTX বা AMD Radeon RX) প্রয়োজন। RTX 3060 বা 4070-এর মতো কার্ড গেমারদের জন্য উচ্চ ফ্রেম রেট ও গ্রাফিক্স কোয়ালিটি নিশ্চিত করে।
৬. ডিসপ্লে সাইজ ও কোয়ালিটি
ল্যাপটপের ডিসপ্লে আপনার ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে। 13-14 ইঞ্চি স্ক্রিন হালকা ও পোর্টেবল, ভ্রমণের জন্য আদর্শ। 15-16 ইঞ্চি গেমিং বা মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য ভালো। সস্তা ল্যাপটপে সাধারণত TN প্যানেল থাকে, যা পাশ থেকে দেখলে ঝাপসা লাগে। চেষ্টা করুন Full HD (1920x1080) IPS প্যানেল নিতে। এতে চোখের ওপর চাপ কম পড়বে এবং কালার একুরেসি ভালো পাবেন।
৭. ব্যাটারি লাইফ
ব্যাটারি লাইফ ল্যাপটপের পোর্টেবিলিটির মূল চাবিকাঠি। সাধারণত ৮-১০ ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ ভালো, তবে Apple MacBook-এর মতো মডেল ১৮-২২ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। বাইরে কাজের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি অগ্রাধিকার দিন। দ্রুত চার্জিং ফিচারও বিবেচনা করুন।
৮. ওজন ও পোর্টেবিলিটি
আপনি যদি প্রায়ই এটি বহন করেন, তবে ওজন গুরুত্বপূর্ণ। ১-১.৫ কেজির ল্যাপটপ (যেমন MacBook Air বা HP Pavilion Aero) ভ্রমণের জন্য সুবিধাজনক। গেমিং ল্যাপটপ সাধারণত ২-৩ কেজি হয়, যা বহনযোগ্যতার চেয়ে পারফরম্যান্সে বেশি জোর দেয়।
৯. অপারেটিং সিস্টেম (OS)
অপারেটিং সিস্টেম আপনার কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে। Windows সর্বাধিক জনপ্রিয়, বেশিরভাগ সফটওয়্যার ও গেমের জন্য উপযুক্ত। macOS (Apple) ক্রিয়েটিভ কাজ (যেমন ফাইনাল কাট প্রো) ও স্থিতিশীলতার জন্য আদর্শ। Linux প্রোগ্রামার ও টেক-স্যাভি ব্যবহারকারীদের পছন্দ।
১০. বাজেট ও ব্র্যান্ড
আপনার বাজেট নির্ধারণ করুন। ৪০,০০০-৬০,০০০ টাকায় সাধারণ কাজের ল্যাপটপ পাওয়া যায়। ৮০,০০০-১,৫০,০০০ টাকায় মাঝারি থেকে উচ্চ পারফরম্যান্সের মডেল, আর ১,৫০,০০০+ টাকায় প্রিমিয়াম বা গেমিং ল্যাপটপ। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মধ্যে Dell, HP, Lenovo, ASUS, Apple এবং MSI উল্লেখযোগ্য। ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টার ও ওয়ারেন্টি নীতি যাচাই করুন।
১১. কীবোর্ড ও টাচপ্যাড
আরামদায়ক কীবোর্ড ও প্রতিক্রিয়াশীল টাচপ্যাড কাজের অভিজ্ঞতা বাড়ায়। ব্যাকলিট কীবোর্ড রাতে কাজের জন্য সুবিধাজনক। লেখক বা প্রোগ্রামারদের জন্য কীবোর্ডের ট্রাভেল দূরত্ব ও ফিলিং পরীক্ষা করুন।
১২. কানেক্টিভিটি ও পোর্ট
USB, HDMI, SD কার্ড রিডার, এবং Type-C পোর্টের প্রাপ্যতা দেখুন। আধুনিক ল্যাপটপে Wi-Fi 6 এবং Bluetooth 5.0 থাকলে দ্রুত ও স্থিতিশীল সংযোগ পাওয়া যায়।
১৩. অফিসিয়াল বনাম আনঅফিসিয়াল (গ্রে মার্কেট)
সবচেয়ে বড় কনফিউশন এখানে। অফিসিয়াল ল্যাপটপে ২ বছর পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ওয়ারেন্টি থাকে এবং পার্টস রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি থাকে। আনঅফিসিয়াল ল্যাপটপ ৫-১০ হাজার টাকা সস্তা হলেও পার্টস বা মাদারবোর্ডের সমস্যায় পড়লে আপনাকে কয়েক গুণ বেশি টাকা গুনতে হতে পারে।
১৪. অতিরিক্ত ফিচার
টাচস্ক্রিন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, ২-ইন-১ কনভার্টিবল ডিজাইন বা উচ্চমানের সাউন্ড সিস্টেম (যেমন Bang & Olufsen) আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বিবেচনা করুন।
ল্যাপটপ কেনার আগে আপনার চাহিদা, বাজেট এবং ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করে সঠিক স্পেসিফিকেশন ও ব্র্যান্ড নির্বাচন করুন। একটি ভালো ল্যাপটপ শুধু আপনার কাজকে সহজ করবে না, বরং দীর্ঘদিন নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে থাকবে। তাই দোকানে গিয়ে বা অনলাইনে হাতে-কলমে পরীক্ষা করে, রিভিউ পড়ে এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে কিনুন।
উপসংহার
ল্যাপটপ কেনা মানে আপনার ক্যারিয়ার এবং প্রোডাক্টিভিটির পেছনে একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ। অনেক সময় আমরা ঝোঁকের মাথায় বিশাল শক্তিশালী প্রসেসর কিনে ফেলি, যার অর্ধেক ক্ষমতাও হয়তো কোনোদিন কাজে লাগে না। আবার উল্টোটাও ঘটে - বাজেট বাঁচাতে গিয়ে এমন ল্যাপটপ কিনি যা কয়েক মাস পরেই ল্যাগ করতে শুরু করে।
বাংলাদেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি (ডলারের দাম আর স্টকের অস্থিরতা) বিবেচনা করলে এখনকার সিদ্ধান্তগুলো আরও বুঝেশুনে নেওয়া দরকার। স্রেফ "দোকানে যেটা বেশি চলছে" তা না কিনে নিজের কাজ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আর সার্ভিস সেন্টারের দূরত্বের কথা ভাবাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
বাংলাদেশে HP-র জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর সহজলভ্য পার্টস এবং পরিচিত ইউজার এক্সপেরিয়েন্স। তবে মনে রাখবেন, "সেরা" ল্যাপটপ বলে আসলে কিছু নেই। একজন কর্পোরেট অফিসারের জন্য যেটা স্ট্যাটাস আর পারফরম্যান্সের প্রতীক, একজন শিক্ষার্থীর জন্য সেটা হতে পারে স্রেফ বিলাসিতা।
দিনশেষে প্রশ্নটা ফিচারের নয়, আপনার প্রয়োজনের। আপনি ল্যাপটপটা দিয়ে আসলে কী করতে চান - সেটাই হোক আপনার আসল কম্পাস। ঠিকঠাক পছন্দ করতে পারলে একটি HP ল্যাপটপ অনায়াসেই আপনার ৪-৫ বছরের বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে থাকবে।
