বাংলাদেশের সেরা এবং জনপ্রিয় এসি ব্র্যান্ড ও মডেলসমূহ

সুইচের চাপেই যেন বদলে যাচ্ছে আপনার ঘরের আবহাওয়া। হয়ে যাচ্ছে উষ্ণ বা শীতল, আর্দ্র বা শুষ্ক। বলছিলাম এয়ার কন্ডিশনার বা এসির কথা। বিশ্বকে বদলে দেয়া এক প্রযুক্তির নাম এয়ার কন্ডিশন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে মরুর বুকেও বিকশিত হয়েছে মানব সভ্যতা। বিরুপ আবহাওয়ায় সস্ত্বি পেতে মানুষের দীর্ধদিনের চেষ্টার ফসল এই এয়ার কন্ডিশনার বা এসি।

বাংলাদেশেও এর ব্যবহার প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। এখন শুধু অফিস, ব্যংক বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নয়। এর ব্যবহার এথন বাসা-বাড়ি, দোকান-পাট, ইবাদতখানা ইত্যাদিতে হয়। 

এয়ার কন্ডিশন কি এবং কিভাবে কাজ করে?

এয়ার কন্ডিশনার (এসি) হলো এমন একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে, গরম আবহাওয়ায় ঠান্ডা ও আরামদায়ক বাতাস সরবরাহ করে। এটি ঘর থেকে গরম বাতাস টেনে নিয়ে রেফ্রিজারেশন চক্রের মাধ্যমে ঠান্ডা করে এবং ঠান্ডা বাতাস আবার ঘরে ফিরিয়ে দেয়।

এয়ার কন্ডিশনার মূলত কুলিং সিস্টেম এবং রেফ্রিজারেশন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে কাজ করে। এসির ফ্যান বাতাস টেনে নিয়ে যায় এবং সেটাকে ফিল্টারের মাধ্যমে পরিশোধিত করে। কম্প্রেসরের মাধ্যমে রেফ্রিজারেন্ট গ্যাসকে সংকুচিত করে তাপ সরিয়ে নেওয়া হয়, যা বাতাসকে ঠাণ্ডা করে। ঠাণ্ডা বাতাস ব্লোয়ার ফ্যানের মাধ্যমে ঘরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এসি ঘরের আর্দ্রতা কমিয়ে একটি আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে। এয়ার কন্ডিশনারের মূল অংশগুলো হলো- কম্প্রেসর, কন্ডেন্সার, এক্সপানশন ভালভ, ইভাপোরেটর, ফ্যান এবং ফিল্টার। আধুনিক এসিগুলোতে বাতাস শোধন, আর্দ্রতা কমানো এবং শক্তি সাশ্রয়ী মোডের মতো অতিরিক্ত সুবিধাও থাকে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরণের এসি

বর্তমানে এসি বাংলাদেশে বিলাসিতা থেকে প্রয়োজনীয়তায় পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনভেদে বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন ধরণের এসি পাওয়া যায়। নিম্নে বিভিন্ন ধরণের এসি তুলে ধরা হলোঃ

১. স্প্লিট এসিঃ আমাদের দেশে স্প্লিট এসির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। সাধারণত বাসা ও অফিসে ব্যবহৃত হয়। স্প্লিট এসি দুটি অংশে বিভক্ত থাকে: একটি ইনডোর ইউনিট এবং একটি আউটডোর ইউনিট। ইনডোর ইউনিটটি ঘরের ভিতরে থাকে এবং আউটডোর ইউনিটটি বাইরে থাকে। স্প্লিট এসি আবার ইনভার্টার অথবা নন ইনভার্টার হয়ে থাকে। 

২. উইন্ডো এসিঃ এই ধরনের এসিতে একটি ইউনিট থাকে যা জানালার মধ্যে অথবা দেয়ালের একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করা হয়। এই ধরণের এসি ছোট রুম বা অল্প স্পেসের জন্য উপযুক্ত। এদের ইনস্টলেশন স্প্লিট এসির চেয়ে তুলনামূলকভাবে সহজ এবং খরচও কম।

৩. পোর্টেবল এসিঃ এই ধরনের এসি সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো যায়। যেসব স্থানে স্থায়ী এসি বসানো সম্ভব নয়, সেখানে ব্যবহৃত হয়। স্থায়ী ইনস্টলেশনের প্রয়োজন নেই বলে ব্যবহার করাও সহজ। তবে এদের কার্যকারিতা অন্যান্য ধরনের এসির তুলনায় কম হতে পারে। বিভিন্ন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, সেমিনার, ছোট রুমের জন্য এই ধরণের এসি ব্যবহার হয়।

৪. সেন্ট্রাল এসিঃ সেন্ট্রাল এসি পুরো বাড়ি বা বিল্ডিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে একটি কেন্দ্রীয় ইউনিট থাকে যা ডাক্টের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে ঠান্ডা বাতাস সরবরাহ করে। বড় ভবন, শপিং মল, অফিস বা হোটেলের জন্য উপযুক্ত। এদের ইনস্টলেশন জটিল এবং খরচও অনেক বেশি।

বাংলাদেশের বাজারে জনপ্রিয়, উন্নত এবং সেরা এসির মডেল ও ব্র্যান্ডসমূহ

বাংলাদেশে গরমের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে, তাই ঘর ও অফিস শীতল রাখতে এয়ার কন্ডিশনার এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসি পাওয়া যায়, যার মধ্যে Walton, Gree, Midea, Panasonic, Samsung, LG, এবং Haier অন্যতম। নিচে কয়েকটি ব্র্যান্ডের এসির মডেল সম্পর্কে লেখা হলোঃ

১. Walton AC

ওয়ালটন বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড। এদের বিভিন্ন ধরনের এসি রয়েছে, যা বিভিন্ন বাজেট এবং প্রয়োজনের জন্য উপযুক্ত। Walton AC বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। ওয়ালটন এয়ার কন্ডিশনারগুলো বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। শক্তি সাশ্রয়ী ইনভার্টার মডেল এবং সাশ্রয়ী নন-ইনভার্টার মডেল উভয়ই পাওয়া যায়।

Walton AC  - এর মডেল সমূহ

WSN-KRYSTALINE-24HH

নন-ইনভার্টার প্রযুক্তি, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়া ফিল্টার, ন্যানো হেলথ কেয়ার প্রযুক্তি, ইকো ফ্রেন্ডলি

ক্যাপাসিটিঃ ২ টন

পাওয়ারঃ ৭০৩৪ ওয়াট

কম্প্রেসারঃ Rotary (Fixed Speed)

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য, অটো অপারেশন এবং টাইমার সুবিধা রয়েছে।

WSI-KRYSTALINE-18MH

দ্রুত কুলিং, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সাশ্রয়ী মূল্য
ক্যাপাসিটিঃ ১.৫ টন

পাওয়ারঃ ৫২৭৫ ওয়াট

কম্প্রেসারঃ Rotary (Inverter)

R32 গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর।

WSI-KRYSTALINE-12JH

Intelligent Inverter প্রযুক্তি, –7˚C থেকে 24˚C Heating & Operating Range, কমফোর্ট কুলিং
ক্যাপাসিটিঃ ১ টন

পাওয়ারঃ ৩৫১৭ ওয়াট

কম্প্রেসারঃ Rotary (Inverter)

পরিবেশবান্ধব, Speed Setting, Timer, Sleep সুবিধা রয়েছে। দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় মধ্যবিত্ত এবং ছোট পরিবারের জন্য সেরা পছন্দ।

 

২. Gree AC

Gree চীনের একটি বিশ্বখ্যাত এয়ার কন্ডিশনার ব্র্যান্ড, যা উন্নত প্রযুক্তি ও টেকসই পারফরম্যান্সের জন্য জনপ্রিয়। বাংলাদেশে Gree AC তাদের সাশ্রয়ী দাম, টেকসই নির্মাণ এবং আধুনিক ফিচারের কারণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গ্রি শুধু এয়ার কন্ডিশনারই নয়, বরং অন্যান্য গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিও তৈরি করে, তবে এসি তাদের প্রধান পণ্য।

Gree AC  - এর মডেল সমূহ

GS-36XCZV32-Gree Split Type Air Conditioner

গ্রী এসিতে উচ্চমানের কম্প্রেসর ব্যবহার করা হয় এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী

ক্যাপাসিটিঃ ৩ টন

পাওয়ারঃ ২৫৮০ ওয়াট

কম্প্রেসারঃ Rotary

স্মার্ট কন্ট্রোল এবং বিভিন্ন ধরণের এয়ার ফিল্টার রয়েছে যা বাতাসকে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখে।

GS-24XLMV32

এতে গোল্ডেন ফিন কন্ডেন্সার ব্যবহার করা হয়েছে যা মরিচা প্রতিরোধ করে এবং এসির দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।

ক্যাপাসিটিঃ ২ টন

পাওয়ারঃ ২০১০ ওয়াট

কম্প্রেসারঃ Rotary

টার্বো মোড, স্লিপ মোড, অটোমেটিক ড্রাইং অপারেশন, ইন্টেলিজেন্ট ডিফ্রস্টিং ইত্যাদি সুবিধা রয়েছে এই এসিতে।

GS-12XLMV32

ইনভার্টার প্রযুক্তি, শক্তিশালী কম্প্রেসর, গোল্ডেন ফিন কন্ডেন্সার, স্মার্ট কন্ট্রোল ইত্যাদি সম্বলিত।

ক্যাপাসিটিঃ ১ টন

পাওয়ারঃ ১২৫০ ওয়াট

কম্প্রেসারঃ Rotary

মাল্টি-স্টেজ ফিল্টার রয়েছে, যা ধুলো ও ব্যাকটেরিয়া দূর করে। Wi-Fi সুবিধা দিয়ে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

 

৩. General AC

General AC হলো Fujitsu General Limited-এর একটি পণ্য, যা ১৯৩৬ সালে জাপানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি Fujitsu-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু করে এবং পরবর্তীতে এয়ার কন্ডিশনার ও HVAC (Heating, Ventilation, and Air Conditioning) সিস্টেমে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করে। General ব্র্যান্ডটি উচ্চমানের প্রযুক্তি, টেকসই নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদী পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত। বাংলাদেশে, এটি প্রিমিয়াম এসি ব্র্যান্ড হিসেবে বিবেচিত হয় এবং বাণিজ্যিক ও আবাসিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

General AC  - এর মডেল সমূহ

General Split AC (ASGA24) 24000Btu

এনার্জি সেভিংস ইউনিট রয়েছে যা মানুষের উপস্থিতি বুঝে সেই অনুযায়ী তাপমাত্রা ব্যলান্স  করে।

ক্যাপাসিটিঃ ২ টন

পাওয়ারঃ ২৫৬০ ওয়াট

কম্প্রেসারঃ Hyper Tropical Rotary

উচ্চ কুলিং ক্ষমতা, পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট, কম শব্দে কাজ করে, যা বাসা ও অফিসের জন্য আদর্শ।

General 1.5Ton (ASGA-18)

ভি-পিএএম ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে যা দ্রুত রুম শীতল করতে সাহায্য করে।

ক্যাপাসিটিঃ ১.৫ টন

পাওয়ারঃ ১৯২০ ওয়াট

কম্প্রেসারঃ Rotary

Turbo Mode নেই। ডিজিটালভাবে তাপমাত্রা এডজাস্ট করা যায়।

 

৪. Singer AC

Singer ১৮৫১ সালে আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহাসিক ব্র্যান্ড, যা প্রথমে সেলাই মেশিন তৈরির জন্য বিখ্যাত হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে Singer বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যে বৈচিত্র্য আনে এবং বর্তমানে এটি SVP Worldwide-এর অধীনে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে, Singer Bangladesh Limited ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং এটি ১৯৮৫ সালের পর থেকে ইলেকট্রনিক্স ও যন্ত্রপাতিতে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। Singer এসিগুলো উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী পারফরম্যান্স ও সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে গ্রাহকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

Singer AC  - এর মডেল সমূহ

SINGER Green Inverter AC | 1.5 Ton | 18CBR32LVSGRIH

R32 গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর। Eco Mode, Auto Restart, High/Medium/Low Turbo Mode সুবিধা রয়েছে। 

ক্যাপাসিটিঃ ১.৫ টন

পাওয়ারঃ ২২০০ ওয়াট

কম্প্রেসারঃ Rotary

ভোল্টেজের ওঠানামা সহ্য করতে পারে, এমনকি কম ভোল্টেজেও চলতে পারে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী

SINGER Green Inverter AC | 1.0 Ton | 12CBR32LVSGRIH

ফোর ইন ওয়ান ফিল্টার যা বাতাসের জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া দূর করে, যা বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করে।

ক্যাপাসিটিঃ ১ টন

পাওয়ারঃ ১৫৫০ ওয়াট

কম্প্রেসারঃ Rotary

কম শব্দ হয় এবং দ্রুত রুম ঠান্ডা করতে পারে। অটো-রিস্টার্ট, স্লিপ মোড, এবং ডিজিটাল ডিসপ্লে ফিচার রয়েছে

 

৫. LG AC

এলজি (LG) ১৯৫৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যিনি প্রথমে GoldStar নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে এটি LG Electronics হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং আজ এটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডগুলোর একটি। LG এসিগুলো উন্নত ইনভার্টার প্রযুক্তি, শক্তিশালী কুলিং, এবং এনার্জি এফিশিয়েন্সির জন্য জনপ্রিয়। LG শুধু এসি নয়, টিভি, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিনের মতো বিভিন্ন পণ্যেও সুনাম অর্জন করেছে।

LG AC  - এর মডেল সমূহ

S4-Q24K22PD

Auto Restart and Tropical Night Comfort Sleep সুবিধা

ক্যাপাসিটিঃ ২ টন

পাওয়ারঃ ১৮৮০ ওয়াট

কম্প্রেসারঃ DUAL INVERTER COMPRESSOR

Ionizer প্রযুক্তি রয়েছে যা বিশুদ্ধ বাতাস সরবরাহ করে।

S4-Q12JA2PC

Dust, Bacteria, Allergy Filter করা যা স্বাস্থের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে

ক্যাপাসিটিঃ ১ টন

পাওয়ারঃ ১০৫০ ওয়াট

কম্প্রেসারঃ DUAL INVERTER COMPRESSOR

৬ ভাবে বায়ুপ্রবাহের দিক নিয়ন্ত্রন করা যায়। যেমন, ডান-বাম, উপর-নিচ। এই এসির ইনডোর ইউনিট এর ভিতরের অংশ অটোমেটিক ভাবে ক্লিন হয়, ফলে ময়লা কম হয়। এছাড়াও রয়েছে ভয়েস কন্ট্রোল সুবিধা।

 

সেরা Air Conditioner মডেলের তুলনা

 

মডেল

মূল বৈশিষ্ট্য

ক্যাপাসিটি/

পাওয়ার

দাম (টাকা)

সুবিধা/অসুবিধা

Walton WSN-KRYSTALINE-24HH

অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়া ফিল্টার, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য

ক্যাপাসিটিঃ ২ টন

পাওয়ারঃ ৭০৩৪ ওয়াট

৮০,০০০-

৮২০০০

সুবিধাঃ অটো অপারেশন এবং টাইমার
অসুবিধাঃ নন-ইনভার্টার প্রযুক্তি

Gree

GS-24XLMV32

উচ্চমানের কম্পেসারের ব্যবহার হয়েছে এবং দীর্ঘস্থায়ী

ক্যাপাসিটিঃ ২ টন

পাওয়ারঃ ২০১০ ওয়াট

৮২০০০-

৯০০০০

সুবিধাঃ, অটোমেটিক ড্রাইং অপারেশন, ইন্টেলিজেন্ট ডিফ্রস্টিং 

অসুবিধাঃ Auto Left-Right Swing নেই

General Split AC (ASGA24) 24000Btu

দ্রুত রুম শীতল করতে এবং কম শব্দে কাজ করে

ক্যাপাসিটিঃ ২ টন

পাওয়ারঃ ২৫৬০ ওয়াট

১২৮০০০-

১৩০০০০

সুবিধাঃ পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট 

অসুবিধাঃ Turbo Mode নেই। দাম বেশি।

SINGER Green Inverter AC | 1.5 Ton | 18CBR32LVSGRIH

Eco Mode, Auto Restart, High/Medium/Low Turbo Mode সুবিধা রয়েছে। 

ক্যাপাসিটিঃ ১.৫ টন

পাওয়ারঃ ২২০০ ওয়াট

৭৮০০০-

৮২০০০

সুবিধাঃ অটো-রিস্টার্ট, স্লিপ মোড, নয়েজ কম

অসুবিধাঃ কম্পেসর তেমন টেকসই নয়

LG
S4-Q24K22PD

Dust, Bacteria, Allergy Filter করা

ক্যাপাসিটিঃ ১ টন

পাওয়ারঃ ১০৫০ ওয়াট

 

সুবিধাঃ বায়ুপ্রবাহের দিক নিয়ন্ত্রন করা যায়।

অসুবিধাঃ খুচরা যন্ত্রাংশ সবসময় সহজলভ্য নয়

           

ইলেকট্রনিক্স স্পেশালিস্টদের মতামত অনুযায়ী সেরা এসি

বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন ধরণের এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসি পাওয়া যায়। টেকসই ও গরম আবহাওয়ার জন্য সেরা হচ্ছে General Split AC (ASGA24) 24000Btu. এই এসি দ্রুত রুম ঠান্ডা করতে পারে এবং পরিবেশবান্ধব। তবে দামটা একটু বেশি। দামের দিকে চিন্তা করলে Gree GS-24XLMV32 সেরা পছন্দ হতে পারে। এতে উচ্চমানের কম্পেসারের ব্যবহার হয়েছে যা দীর্ঘস্থায়ী। ছোট পরিবার এবং বাজেটবান্ধন এসির সেরা পছন্দ WSI-KRYSTALINE-12JH. এই এসি দ্রুত কমফোর্ট কুলিং দিতে সক্ষম। 

জনপ্রিয় এসি ব্র্যান্ডসমূহের মধ্যে তুলনা

বাংলাদেশে এসির ব্যবহার প্রচুর পরিমানে বাড়ছে। বাসা-বাড়ি, অফিস-ব্যাংক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসি এখন প্রয়োজনীয় সামগ্রী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, সেরা ব্র্যান্ড নির্বাচন করা কিছুটা কঠিন হতে পারে, কারণ প্রতিটি ব্র্যান্ডের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা রয়েছে। নিচে কিছু পরিচিত ব্র্যান্ডের তুলনা দেওয়া হলো:

ব্র্যান্ড

পরিচিতি 

গুনগত মান 

বাজারমূল্য

General

General AC হলো Fujitsu General Limited-এর একটি পণ্য, জাপানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি বাংলাদেশে প্রিমিয়াম এসি ব্র্যান্ড হিসেবে বিবেচিত হয় 

উচ্চ

উচ্চ

Walton

ওয়ালটন বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় এই ব্র্যান্ডের এসি

মধ্যম 

মধ্যম

Gree

Gree চীনের একটি বিশ্বখ্যাত এয়ার কন্ডিশনার ব্র্যান্ড। বাংলাদেশে Gree AC তাদের সাশ্রয়ী দাম, টেকসই নির্মাণ এবং আধুনিক ফিচারের কারণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

উচ্চ

উচ্চ

Singer

আমেরিকান ব্র্যান্ড, এর এসিগুলো উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী পারফরম্যান্স ও সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে গ্রাহকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

মধ্যম 

উচ্চ

LG

দক্ষিন কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। উন্নত ইনভার্টার প্রযুক্তি, শক্তিশালী কুলিং, এবং এনার্জি এফিশিয়েন্সির জন্য এলজি এসি জনপ্রিয়।

উচ্চ 

উচ্চ

 

কাস্টমার রিভিউ ও ফিডব্যাক

★★★★★

"I wanted a Bangladeshi brand AC and decided to go for Walton. The cooling performance is decent, and the price is much more affordable compared to international brands. The after-sales service is very good, and I was able to get installation and support easily. 

-Abu Saleh, Dhaka

Source: Waltonbd.com

 

★★★★★

"যদি আপনি সবচেয়ে শক্তিশালী কুলিং এসি চান, তাহলে General এসি এক কথায় অসাধারণ। আমি এটি তিন বছর ধরে ব্যবহার করছি, এবং গরমের দিনে এটি মাত্র কয়েক মিনিটেই পুরো রুম ঠাণ্ডা করে ফেলে। কিন্তু এর বিদ্যুৎ খরচ তুলনমূলক বেশি অন্যান্য ইনভার্টার এসির চেয়ে।

- সোহরাব হোসেন

Source: Daraz

 

এসি কেনার আগে যে সব বিষয়  জানতে হবে

এসি কেনার আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা জরুরী। এটি আপনার চাহিদা, বাজেট, এবং দীর্ঘমেয়াদী সুবিধার সাথে মিলিয়ে সেরা পণ্যটি বেছে নিতে সাহায্য করবে। সঠিক এসি নির্বাচন করতে না পারলে তা বিদ্যুৎ বিল, কুলিং পারফরম্যান্স, এবং স্থায়িত্ব– সবকিছুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।  নিচে এসি কেনার আগে যে সব বিষয় জানা উচিত, তা বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:

১. এসির ক্যাপাসিটিঃ

এসির ক্যাপাসিটি টন বা BTU-British Thermal Unit হিসেবে নির্ধারণ হয়। রুম বা যে স্থানের জন্য এসির ব্যবহার হবে তার আকার অনুযায়ী টন বা BTU নির্ধারণ করতে হবে। ঘরের আকারের সাথে মিল না থাকলে এটি কার্যকরভাবে ঠান্ডা করবে না বা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ করবে। সাধারণত ১০০-১২০ বর্গফুট: ১ টন (১২,০০০ BTU),  ১২০-১৮০ বর্গফুট: ১.৫ টন (১৮,০০০ BTU),  ১৮০-২৫০ বর্গফুট: ২ টন (২৪,০০০ BTU) এইভাবে বেছে নিতে হবে। 

২. অনুমোদিত লোডঃ 

আপনার মিটারে কত কিলোওয়াট লোড বিদ্যুৎ অফিস থেকে নেয়া হয়েছে তা জেনে নিন। ১ কিঃওঃ লোড হলে ১.৫ টন বা এর বেশি টনের এসি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। এরকম হলে লোড বাড়িয়ে নিয়ে তারপর এসি ক্রয় করতে হবে।

৩. ইনভার্টার নাকি নন-ইনভার্টার এসি?

ইনভার্টার এসি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। এটি ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী কম্প্রেসরের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। নন-ইনভার্টার এসি তুলনায় ইনভার্টার এসি বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

৪. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী রেটিংঃ

BEE Star rating দেখে এসি কিনুন। বেশি স্টার মানে বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসি দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমাতে সাহায্য করে।

৫. ফিল্টারঃ

পরিবেশবান্ধব ভালো মানের ফিল্টারযুক্ত এসি কিনুন, যা বাতাস থেকে ধুলাবালি এবং জীবাণু দূর করতে পারে। ভালো ফিল্টার এসির কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

৬. বিক্রয়োত্তর সেবাঃ

ওয়ারেন্টি কত বছর, কম্পেসার ওয়ারেন্টি কত দিনের এবং অন্যান্য পার্টস কত দিনের ওয়ারেন্টি আছে তা যাচাই করুন। সার্ভিস সেন্টার আছে কি না এবং কাস্টমার রিভিউ কেমন তা যাচাই করুন। 

৭. বাজেট এবং দামঃ

এসি কেনার আগে বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং মডেলের দাম তুলনা করুন। আপনার বাজেট অনুযায়ী সঠিক এসিটি বাছাই করুন।

৮. ইনস্টলেশন খরচ এবং মেইনটেনেন্স
কিছু ব্র্যান্ড ফ্রি ইনস্টলেশন অফার করে, কিছু ব্র্যান্ড আলাদা চার্জ নেয়। এসি ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ঠান্ডা কম হয় ও বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়। বছরে অন্তত একবার সার্ভিসিং করানো ভালো। কিছু কিছু ব্র্যান্ড প্রথম ২-৩টি ফ্রি ক্লিন সার্ভিস প্রদান করে। এইসব বিষয় সম্পর্কে জেনে নিন।

৯. ফিচার বিবেচনাঃ 

এসি ব্র্যান্ডগুলো বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত ফিচার সুবিধা দিয়ে থাকে। যেমন, এয়ার ফিল্টার, App, Wifi দিয়ে AC Control, অটো ক্লিন ইত্যাদি। এসব ফিচারও বিবেচনা করা উচিত এসি কেনার আগে।

বাংলাদেশে গরম ও আর্দ্রতার কারণে ইনভার্টার এসি, R32 রেফ্রিজারেন্ট, এবং বাতাস শোধন ফিচারযুক্ত মডেল বেশি উপযোগী। উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচ্য করে বিশেষজ্ঞ বা বিক্রেতার সাথে কথা বলে এসি কেনার সিদ্ধান্ত নিন।